বারাণসি, ৫ ডিসেম্বরঃ খোদ প্রধানমন্ত্রীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে এক বিজেপি নেত্রীর ফ্ল্যাটে রমরমিয়ে যৌনচক্র চলার অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশের অভিযানে ওই ফ্ল্যাট থেকে ৯ জন মহিলা ও ৪ জন যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, স্পা সেন্টারের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল দেহব্যবসা। ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি নেতৃত্ব, কারণ ফ্ল্যাটটি জুড়ে অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তি হলেন ২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়া এবং বর্তমানে বিজেপির নেত্রী শালিনী যাদব।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বারাণসীর সিগরা এলাকার একটি বহুতল আবাসনে সন্দেহজনক যাতায়াত বহুদিন ধরেই নজরে আসছিল। গোপন সূত্রে পাকা খবর পেয়ে সোমবার রাতে হানা দেয় পুলিশ ও স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি)। ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় মোবাইল ফোন, বিভিন্ন নথি, নাম লিপিবদ্ধ খাতা এবং বেশ কিছু আপত্তিকর সামগ্রী। জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মহিলারা এই ফ্ল্যাটে আসতেন বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীদের ধারণা, এই চক্র শুধু সিগরাতেই সীমাবদ্ধ নয় মাহমুরগঞ্জ, ভেলুপুর ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বেশ কিছু স্পা সেন্টারেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। আশঙ্কা, এই ব্যবসার জাল আরও বহু জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, যে ফ্ল্যাটে যৌনচক্র চালানোর অভিযোগ, সেটি বিজেপি নেত্রী শালিনী যাদবের স্বামী অরুণ যাদবের নামে নথিভুক্ত। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধীরা শালিনীকে skঘিরে প্রশ্ন তুললেও নেত্রী বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে জানান, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই। তাঁর দাবি, কিছু রাজনৈতিক মহল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় ব্যক্তিরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর নাম ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তিনি প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করার সতর্কবার্তাও দিয়েছেন।
অন্যদিকে, অরুণ যাদব ফ্ল্যাটটি তাঁদের সম্পত্তি বলে স্বীকার করলেও জানান, ১৯৯৬ সাল থেকে ওই ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া রয়েছে। ভাড়াটে কী করছে, তা তাঁদের জানার দায় নয় বলেই দাবি করেছেন তিনি।
পুলিশ ঘটনার বিস্তৃত তদন্ত শুরু করেছে। চক্রের মূল মাথা এবং আর কারা জড়িত রয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।





