বিহার, ২৭ জুলাইঃ নিট প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনের আবহে বিহারে ছাত্র বিক্ষোভ ঘিরে নতুন বিতর্ক। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে এক পুলিশকর্মী AK-47 রাইফেল থেকে গুলি চালাচ্ছেন এমনই একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনার জেরে অভিযুক্ত কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিহার পুলিশ। একই ঘটনায় রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ কুমার ঝা সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন।
২৫ জুলাই রাজ্যব্যাপী বন্ধের ডাক ঘিরে বিহারের একাধিক জেলায় ছাত্র সংগঠনগুলির বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সিওয়ান-সহ বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ঘিরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যেই সিওয়ানের একটি ভিডিও সামনে আসে। সেখানে দেখা যায়, এক পুলিশকর্মী AK-47 রাইফেল থেকে পরপর গুলি ছুড়ছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ সদর দফতর। বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশের পাশাপাশি অভিযুক্ত কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়।
ঘটনায় তিন জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের পটনার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সকলের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ১৫ বছরের মহম্মদ আরিফ। পরিবারের দাবি, বন্ধের দিন দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় অশান্তির মধ্যে তাঁর গলায় গুলি লাগে। পরে অস্ত্রোপচার করে গুলিটি বের করা হয়েছে।
ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক চাপও বাড়তে শুরু করেছে। বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনে প্যালেট গান এবং বিহারে AK-47 ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন।
পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। তবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে নির্ধারিত প্রোটোকল মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।





