মুর্শিদাবাদ, ৯ ডিসেম্বরঃ তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর গত শনিবার বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করার পর থেকেই এলাকায় তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব দান-উৎসবের পরিবেশ। শিলান্যাসের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে অনুদানের আহ্বান জানান। সেই আবেদন গৃহীত হওয়ায় মাত্র দু’-দিনের মধ্যেই অনুদানের অঙ্ক আছড়ে পড়েছে কোটি টাকার ঘরে। সোমবার রাত পর্যন্ত হুমায়ুনের বাড়িতে জমে থাকা অর্থের পরিমাণ ছাড়িয়ে গেল ৩ কোটি টাকা। মঙ্গলবারও চলছে গোনার কাজ।
মসজিদ নির্মাণের জন্য এলাকাজুড়ে ১১টি দানবাক্স বসিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। স্বল্প সময়েই সব বাক্স উপচে পড়ে। দানবাক্সে পাওয়া গেছে ৫০০ টাকার নোট থেকে শুরু করে ১০ টাকার কয়েন পর্যন্ত বিভিন্ন মূল্যমানের টাকা। অনেকেই দিয়েছেন সোনার অলঙ্কার, যার বাজারমূল্য মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে লক্ষাধিক টাকায়। বিপুল অনুদানের কারণে হুমায়ুনের বাড়িতে নিয়ে আসতে হয়েছে বিশেষ মানি-কাউন্টিং মেশিন। বাক্সের কয়েকটি এখনও খোলা হয়নি, সেগুলিও গোনার অপেক্ষায়।
শুধু নগদ অর্থ নয়, ইট-বালি-পাথর–সহ নির্মাণসামগ্রীও দান করছেন বহু মানুষ। ফলে বেলডাঙা-রেজিনগর এলাকার ইটভাটাগুলিতে চাহিদা হঠাৎই কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। ইটভাটার মালিকদের দাবি, গত ৬ ডিসেম্বর প্রায় দেড় লক্ষ টাকার ইট বিক্রি হয়। রবিবার ও সোমবার মিলিয়ে আরও কয়েক লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে যার অধিকাংশই বাবরি মসজিদের জন্য দানস্বরূপ ইট কেনায় ব্যয় করা হয়েছে।
গত ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেন হুমায়ুন কবীর। ঠিক তার আগেই দলীয় নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে তাঁকে সাসপেন্ড করে তৃণমূল। তবে হুমায়ুনের জনপ্রিয়তা ও প্রভাব এলাকায় কমেনি বলেই মনে করছে স্থানীয় মহল। তাঁর আহ্বানে এত বড় অঙ্কের দান জমা হওয়া সেই ইঙ্গিতই দেয়।
রবিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া টাকা গোনার কাজ রাতভর চলেছে এবং মঙ্গলবারও চলবে বলে জানা গিয়েছে। হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, “মানুষ মুক্তহস্তে দান করেছেন। তাঁদের এই ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় শক্তি।”
হুমায়ুনের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, সব অনুদান নগদ অর্থ, সোনা ও নির্মাণসামগ্রী সংরক্ষণের জন্য একটি আলাদা ঘর তৈরি করা হবে। সেখানে সিসিটিভি সহ বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে অনুদান ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছ থাকে।
বেলডাঙায় এভাবে দান-উৎসবের ঢেউ রাজনৈতিক মহলেও জোর আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ বলছেন আবেগ, কেউ বলছেন প্রতিবাদের ভাষা কিন্তু যে কোনও পরিস্থিতিতেই মসজিদ নির্মাণের অনুদান বেলডাঙায় এখন কেন্দ্রবিন্দুতে।





