কলকাতা, ১৬ মার্চঃ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। রবিবার বিকেলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাজ্যের আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর নির্ঘণ্ট ঘোষণা করার পরই একের পর এক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে কমিশন।
সূত্রের খবর, রাত পোহানোর আগেই রাজ্য পুলিশের ডিজি পদ থেকে পীযূষ পান্ডে এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সুপ্রতিম সরকার -কে সরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সোমবার, ১৬ মার্চ সূর্যাস্তের আগেই এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, এই দুই পদে এমন দুই অভিজ্ঞ পুলিশ আধিকারিককে আনা হতে পারে যাঁদের সততা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। জানা গিয়েছে, সম্ভাব্যদের মধ্যে একজন আগে থেকেই রাজ্য পুলিশের ডিজি পদের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত ছিলেন, যদিও তাঁকে ওই পদে নিয়োগ করা হয়নি। অন্য এক আইপিএস আধিকারিকও তাঁর নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার জন্য পরিচিত হলেও এতদিন অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেই নির্বাচন কমিশন রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক স্তরে বড় রদবদল করেছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব পদ থেকে জগদীশ প্রসাদ মীনা-কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস অফিসার দুষ্যন্ত নারিয়ালা-কে নতুন মুখ্যসচিব এবং ১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস অফিসার সংঘমিত্রা ঘোষ-কে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, হোম অ্যান্ড হিল অ্যাফেয়ার্স পদে নিয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দিল্লির নির্বাচন সদন থেকে পাঠানো নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ভোটের প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বদলির নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন কি না তার রিপোর্ট সোমবার বিকেল ৩টার মধ্যে কমিশনকে জানাতে হবে।
এছাড়াও নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, যেসব আধিকারিককে বর্তমান পদ থেকে সরানো হয়েছে তাঁদের ভোট প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও নির্বাচন সংক্রান্ত পদে নিয়োগ করা যাবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই কমিশনের এই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ।





