পূর্ব বর্ধমান, ২৮ সেপ্টেম্বরঃ দক্ষিণের রাজনীতির সীমানা পেরিয়ে এবার বাংলায় পা রাখল বিজয় থলপতির দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে)। পূর্ব বর্ধমানের ফাগুপুরে দলের নতুন কার্যালয় খোলার মধ্য দিয়ে শুরু হল সাংগঠনিক পথচলা। আর সেখানেই উঠছে স্বাভাবিক প্রশ্ন এ কি শুধু সংগঠন বিস্তারের প্রস্তুতি, নাকি আগামী দিনে বাংলার ভোটের ময়দানেও দেখা যাবে টিভিকে-কে?
দল অবশ্য এখনই সেই জল্পনায় সিলমোহর দিচ্ছে না। আপাতত ভোটের রাজনীতির বদলে সামাজিক কাজ এবং জনসংযোগকেই সামনে রাখার কথা জানানো হয়েছে। তবে দলের রাজ্য নেতৃত্বের কথায়, ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
টিভিকে-র রাজ্য কো-অর্ডিনেটর চৈতালি রায়ের বক্তব্য, প্রথম ধাপে সামাজিক মাধ্যমে সংগঠনের প্রচার বাড়ানো হবে। তার পর মানুষের সুবিধা-অসুবিধার কথা জানতে জনসংযোগে জোর দেওয়া হবে। শিক্ষা এবং চাকরিকে দলের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবেও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর কথায়, টিভিকে বাংলায় ভোটে লড়ুক এমনটাই তাঁদের ইচ্ছা। তবে কোন নির্বাচনে দল অংশ নেবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে শীর্ষ নেতৃত্ব। বাংলার মানুষ কী চাইছেন, সেটিও গুরুত্ব পাবে।
দলের দাবি, তামিলনাড়ু থেকে নির্দেশ আসার পরই বাংলায় সংগঠন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ফলে ফাগুপুরের কার্যালয়কে নিছক একটি স্থানীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখার বদলে বৃহত্তর সাংগঠনিক পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবেই দেখছে দলীয় নেতৃত্ব।
এর পিছনে অবশ্য রয়েছে তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সাফল্য। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম বার লড়েই ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি পেয়েছে টিভিকে। একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে তারা। সরকার গড়ার জন্য পরে কংগ্রেস-সহ একাধিক দলের সমর্থনও পেয়েছে বিজয়ের দল।
সেই সাফল্যের পরই বাংলায় সংগঠন বিস্তারের উদ্যোগ স্বাভাবিক ভাবেই নজর কাড়ছে। তবে বাংলায় ভোটে নামার সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষণা হয়নি। বিজয় নিজে কবে বাংলায় আসবেন, তা-ও স্পষ্ট নয়। চৈতালির কথায়, দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। তবে সংগঠন বাংলায় প্রতিষ্ঠা পেলে দক্ষিণী তারকার সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।
ফলে ফাগুপুরের দলীয় কার্যালয় এখন শুধুই একটি ঠিকানা নয়, বরং বাংলার রাজনীতিতে বিজয়ের দলের ভবিষ্যৎ উপস্থিতির সম্ভাবনা ঘিরে নতুন কৌতূহলের কেন্দ্র।





