কলকাতা, ২১ সেপ্টেম্বরঃ এক বয়ানে নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, পরের বয়ানে সামনে তৃণমূলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস। শালবনি জমি মামলায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বদলাচ্ছে সুমিত রায়ের বয়ান ঘিরে দাবি। রবিবার ভবানীভবনে সিআইডির দফতরে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন আইনজীবী অগ্নিশ বসু। সেখান থেকে বেরিয়ে আইনজীবীর দাবি, দলীয় অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিষেকের নির্দেশের কথা সুমিত বলেননি। বরং তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসের নির্দেশেই তিনি টাকা জমা দিতেন বলে জানিয়েছেন।
সুমিতের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, দলের আর্থিক লেনদেন দেখার দায়িত্ব ছিল কোষাধ্যক্ষের। ২০২০ সালের পর সেই দায়িত্বে অরূপ বিশ্বাস ছিলেন বলে সুমিত জানিয়েছেন। কোষাধ্যক্ষ যে ভাবে নির্দেশ দিতেন, সেই অনুযায়ীই তিনি টাকা জমা করতেন এমনটাই দাবি অগ্নিশ বসুর।
কিন্তু তদন্তকারীদের বক্তব্যে এর আগের ছবি ছিল অন্য রকম। শালবনি জমি মামলায় সিআইডি আদালতে দাবি করেছিল, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তৃণমূলের একটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭ কোটি টাকা জমা করেছিলেন সুমিত। জেরায় তিনি নাকি জানিয়েছিলেন, ‘টি ঘোষ’ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ওই টাকা পেয়েছিলেন এবং তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই হয়েছিল। ‘টি ঘোষ’-কে অভিষেকের কোষাধ্যক্ষ বলে তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছিলেন।
অর্থাৎ, তদন্তের টেবিলে এখন কার্যত দু’টি পৃথক বক্তব্য। এক দিকে সিআইডির দাবি, টাকা জমার নির্দেশ এসেছিল অভিষেকের কাছ থেকে। অন্য দিকে সুমিতের আইনজীবীর দাবি, সেই নির্দেশদাতা ছিলেন দলের তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস। কোন বক্তব্য তদন্তে কতটা প্রমাণিত হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
শালবনি মামলার সূত্রে ইতিমধ্যেই সুমিত রায়কে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। অভিযোগ, সরকারি জমি ভুয়ো নথির মাধ্যমে দখল ও বিক্রির একটি চক্রের তদন্তে তাঁর নাম উঠে আসে। সিআইডির চার্জশিটেও সুমিতকে মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের সূত্র খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।
এই মামলায় টাকা কোথা থেকে এসেছিল, কার নির্দেশে তা দলীয় অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল এবং সেই অর্থের সঙ্গে শালবনির জমি লেনদেনের কোনও যোগ ছিল কি না এই প্রশ্নগুলিই তদন্তের কেন্দ্রে। সুমিতের আইনজীবীর নতুন বক্তব্যে অরূপ বিশ্বাসের নাম সামনে আসায় সেই তদন্তে আরও একটি নতুন সূত্র যোগ হল।
তবে আইনজীবীর এই বক্তব্যকে এখনও তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসাবে দেখার সুযোগ নেই। সিআইডির আগের দাবি এবং সুমিতের আইনজীবীর বক্তব্য দুইয়ের মধ্যে ফারাকই এখন মামলার পরবর্তী আইনি গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তদন্তে কোন বয়ান ও কোন নথি কতটা গ্রহণযোগ্য প্রমাণিত হয়, নজর সেদিকেই।





