কলকাতা, ৯ ডিসেম্বরঃ পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বিএলও-দের ভাতা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন বরাদ্দ পাঠালেও নবান্ন টাকা না ছাড়ায় প্রায় ৯৫ হাজার বিএলওর সম্মানিক দীর্ঘদিন আটকে ছিল-এমন অভিযোগই উঠেছিল কর্মীদের একাংশের তরফে। এই অবস্থায় পরপর দুটি চিঠি পাঠায় নির্বাচন কমিশন। অবশেষে সোমবার রাজ্য সরকার প্রথম দফায় ৬১ কোটি টাকা মুক্তি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
অর্থ দফতর সূত্রে খবর, এই অর্থ আপাতত সক্রিয় ৯৫ হাজার বিএলওর মধ্যে বণ্টন করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে বাকি বরাদ্দ তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। কমিশন সূত্রের দাবি, এই বরাদ্দ শুধুমাত্র এসআইআর-এর কাজেই খরচ হবে, কারণ বর্তমানে এনুমারেশন ফর্ম বিলি, সংগ্রহ এবং ডিজিটাইজেশন—সব দায়িত্বই তাঁদের কাঁধে। গত সপ্তাহেই নির্বাচন কমিশন নিয়মমাফিক বরাদ্দ ছাড়ার জন্য নবান্নকে চিঠি দিয়েছিল। নবান্ন আশ্বাস দিয়েছিল দ্রুত অর্থ পাঠানোর। সোমবার অর্থ দফতরের ঘোষণায় সেই প্রতিশ্রুতির প্রথম ধাপ বাস্তবায়িত হলো।
এদিকে, এবারের এসআইআর-এ বিএলওদের পারিশ্রমিকও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাঁদের মূল সম্মানিক ১২ হাজার টাকা, পাশাপাশি অতিরিক্ত ৬ হাজার টাকা ভাতা—মোট ১৪ হাজার। সুপারভাইজারদের দেওয়ার কথা ১৮ হাজার টাকা। আগে বছরে রিভিশনের জন্য পাওয়া যেত মাত্র ৬ হাজার টাকা, যা দ্বিগুণ করে ১২ হাজার করা হয়েছে। স্মার্টফোন না থাকা, ডেটা খরচ বৃদ্ধি এসব সমস্যা বিবেচনা করেই অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানাচ্ছে কমিশন।
প্রায় ৮১ হাজার সক্রিয় বিএলও জানাচ্ছিলেন, কাজ বাড়লেও পারিশ্রমিক সময়মতো হাতে না আসায় অসন্তোষ বাড়ছিল। নবান্ন অর্থ ছাড়ায় পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি এলেও এখনও বহু কর্মী পুরো অর্থ পাওয়ার অপেক্ষায়।
এদিকে, যেসব বিএলও দায়িত্ব পালনকালে মারা গিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও ইঙ্গিত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে আজকের ১২ রাজ্যের বৈঠকে জানানো হয়েছে।
এদিকে ‘বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটি’-র পক্ষ থেকে সিইও দফতরের সামনে টানা অবস্থান চলছে। তাঁদের দাবি, মৃত বিএলও-দের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও পরিবারের একজনকে চাকরি দিতে হবে। তবে কমিশন এখনো সেই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।





