কলকাতা, ২৪ সেপ্টেম্বরঃ কলকাতার নিউটাউনে এ বার শুধু হাসপাতাল নয়, তৈরি হতে চলেছে এক নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক পরিসর। ৫১ একর জমির উপর ২ হাজার শয্যার ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হল বৃহস্পতিবার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি একসঙ্গে প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। প্রকল্পে ৪ হাজার কোটিরও বেশি টাকা বিনিয়োগের কথা জানিয়েছেন আদানি।
এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় ঘোষণা ২ হাজার শয্যার মধ্যে ১ হাজারটি অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য নির্দিষ্ট থাকবে। সরকারি স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের আওতায় তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা জানানো হয়েছে। হাসপাতালের সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজ এবং গবেষণার পরিকাঠামোও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মসংস্থান তৈরির কথাও জানিয়েছে আদানি গোষ্ঠী।
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই এই উদ্যোগকে বাংলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় ‘মাইলস্টোন’ বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই হাসপাতালকে ঘিরে নিউটাউনে একটি ‘স্বাস্থ্যনগরী’ গড়ে উঠতে পারে। আদানি গোষ্ঠীকে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে অতীতের বাম ও তৃণমূল সরকারের শিল্পনীতি নিয়েও আক্রমণ করেন তিনি। বাম আমলে কারখানা বন্ধ এবং তৃণমূল জমানায় শিল্পে অনাগ্রহের অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে তাঁর ‘ভাতা-নির্ভর’ রাজনীতিরও সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্য দিকে, গৌতম আদানির ঘোষণা আরও বড়। তাঁর বক্তব্য, ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলায় ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে গোষ্ঠীর। বন্দর, পণ্য পরিবহণ, বিদ্যুৎ, সড়ক, সেতু, সিমেন্ট এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারের মতো একাধিক ক্ষেত্রে সেই বিনিয়োগ ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা।
অর্থাৎ, নিউটাউনের এই হাসপাতালকে সামনে রেখে বাংলায় আদানি গোষ্ঠীর বিনিয়োগের পরিধি আরও বড় করার বার্তাই মিলল। এখন নজর থাকবে, ঘোষণার এই বড় অঙ্কগুলি কত দ্রুত বাস্তব প্রকল্পে রূপ নেয় আর তার সুফল কতটা পৌঁছয় সাধারণ মানুষের কাছে।





