কলকাতা, ১৪ অক্টোবরঃ একটি ছবিতে অভিনয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ। অথচ শেষ পর্যন্ত তৈরি হয়নি সেই ছবি, ফেরত মেলেনি বিনিয়োগের টাকাও। এই অভিযোগ ঘিরে আইনি জটিলতায় টলিউড অভিনেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ সোহম চক্রবর্তী। প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলায় আগাম জামিন চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বুধবার সেখানেও স্বস্তি পেলেন না অভিনেতা। বিচারপতি দেবাংশু বসাকের এজলাসে খারিজ হয়ে গেল তাঁর আগাম জামিনের আবেদন। ফলে মামলাকে কেন্দ্র করে সোহমের আইনি অস্বস্তি আরও বাড়ল।
অভিযোগের সূত্রপাত ২০২২ সালে। অভিযোগকারী কৌশিক কর্মকারের দাবি, সোহমের প্রযোজনা সংস্থা ‘সোহম এন্টারটেনমেন্ট’-এর একটি ছবির জন্য তিনি ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। ‘লাল সুটকেসটা কোথায়’ নামের ওই ছবিতে অভিনয়ের কথা ছিল সোহমের। কিন্তু অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত ছবিটি তৈরি হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী টাকা ফেরত পাওয়ার কথা থাকলেও তা মেলেনি বলেই দাবি অভিযোগকারীর।
কৌশিকের অভিযোগ, বিনিয়োগের টাকা ফেরত চাওয়ায় সোহম নিজের বিধায়ক পরিচয় ব্যবহার করে তাঁকে হুমকি দেন। আড়িয়াদহের একটি সংস্থার প্রতিনিধি হিসাবে তিনি ওই অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা আদালতে বিচারাধীন। এ বিষয়ে সোহমের বক্তব্য বা মামলার সবিস্তার শুনানির তথ্য সামনে না আসা পর্যন্ত অভিযোগগুলিকে প্রমাণিত বলে ধরে নেওয়া যায় না।
মামলায় নতুন মাত্রা যোগ হয় গত জুন মাসে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ দাবি করে, ২০২২ সালের চুক্তিতে সোহমের সংস্থার তরফে ব্যবহৃত নথিপত্রের মধ্যে কয়েকটি ভুয়ো নথি থাকতে পারে। কৌশিকের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারণা ও জালিয়াতি-সহ একাধিক অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয় অভিনেতার বিরুদ্ধে।
এর পরেই গ্রেপ্তারির আশঙ্কা এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন করেন সোহম। কিন্তু বুধবার হাই কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর তাঁর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয়, সে দিকেই নজর রয়েছে।





