খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২১ ডিসেম্বরঃ ফের দলীয় অবস্থান থেকে কিছুটা আলাদা সুরে কথা বলে বিজেপিকে অস্বস্তিতে ফেললেন তমলুকের সাংসদ ও প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ব্রিগেডে গীতাপাঠ অনুষ্ঠানের সময় এক প্যাটিস বিক্রেতাকে নিগ্রহ এবং তাঁর জীবিকা নির্বাহের সরঞ্জাম ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। একটি বাংলা সংবাদ চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিযুক্তদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন গেরুয়া সাংসদ।
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “এরা কারা? কোথা থেকে এরা এসে জুটল? একজন খেটে খাওয়া, মেহনতী মানুষের রুজি-রোজগার বন্ধ করে দেওয়ার অধিকার ওদের কে দিল?” নিগ্রহে জড়িতদের ‘কুলাঙ্গার’ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এটা নয়। কাউকে মারার অধিকার কারও নেই।” একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, “যাঁরা দেশ শাসন করছে, তাঁদের গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করিস না। হাত-পা ভেঙে দেবে, একটা কথাও বলতে পারবি না।”
প্যাটিস বিক্রেতা নিগ্রহে অভিযুক্তরা যদি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকে, তবে তাঁদের অবিলম্বে দল থেকে বহিষ্কার করার দাবি জানান অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কারণ, এই ঘটনায় অভিযুক্তদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেছিলেন বিজেপিরই এক আইনজীবী নেতা। এমনকী, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযুক্তরা জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁদের সংবর্ধনাও দেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, অভিযুক্তরা সকলেই কোনও না কোনও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাক্ষাৎকারে আর জি কর কাণ্ডের প্রসঙ্গও টানেন তমলুকের সাংসদ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “অভয়া কি মুসলিম ছিল?” এরপরই বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “বিজেপি কি কোনওদিন পশ্চিমবঙ্গ শাসন করলে মুসলিমদের ধরে ধরে মারা হবে?” তাঁর বক্তব্য, বিজেপিকে ক্ষমতায় আসতে হলে সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এবং সেই সুশাসনের ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে কঠোর ও ন্যায়সঙ্গত প্রশাসনের মাধ্যমে।
এর আগেও রাজ্যে তৃণমূল জমানার অবসান ঘটাতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের ‘সদিচ্ছা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। মোদির সফরের মধ্যেই তাঁর এই ধারাবাহিক মন্তব্যে স্পষ্ট, রাজ্য বিজেপির ভিতরেই মতভেদ ও অস্বস্তির সুর ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ‘বেসুরো’ বক্তব্য আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে আরও নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।





