মাথাভাঙা, ২৩ ডিসেম্বর: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে বাংলাদেশি সন্দেহে এক যুবককে আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল। ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহার জেলার মাথাভাঙা ১ নম্বর ব্লকের শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সাতগ্রাম মানাবাড়ি এলাকায়। ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা এক অচেনা যুবককে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় তাঁরা ওই যুবককে আটক করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুবকের কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজেকে বাংলাদেশের বাসিন্দা বলে স্বীকার করেছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। এরপরই বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিএসএফ ও মাথাভাঙা থানার পুলিশ। তারা পরিস্থিতি সামাল দিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে আটক যুবককে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত যুবকের নাম মোঃ রিয়াদ। তার বাড়ি বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম এলাকায়। কী উদ্দেশ্যে সে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে যুবক কোনও বৈধ নথিপত্র দেখাতে পারেনি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মাথাভাঙা থানার পুলিশ জানায়, গ্রাম মানাবাড়ি এলাকায় বাংলাদেশি সন্দেহে এক যুবককে আটক করার খবর পেয়ে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। এরপর ধৃত যুবককে মাথাভাঙা থানায় নিয়ে আসা হয়। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, আজ ধৃত যুবককে আদালতে পেশ করা হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি, সে কীভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছে এবং এর সঙ্গে কোনও চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘিরে আগেও একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রশাসন। এই ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে।





