কোচবিহার, ৭ আগস্টঃ রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে হাতের ইশারায় গাড়ি থামাচ্ছে একদল স্কুলপড়ুয়া। কোথাও আবার ট্রাফিক সিগন্যালের নিয়ম বুঝিয়ে দিচ্ছেন পুলিশকর্মীরা। কোচবিহারে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহের ট্রাফিক এক্সিবিশন যেন এক দিনের জন্য হয়ে উঠল সচেতনতার জীবন্ত শ্রেণিকক্ষ।
পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ উপলক্ষে শুক্রবার কোচবিহার সদর ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় বিশেষ ট্রাফিক এক্সিবিশনের। সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয় এই প্রদর্শনী। বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষও সেখানে ভিড় জমান।
এক্সিবিশনের মূল আকর্ষণ ছিল হাতে-কলমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ। শুধু বইয়ের পাতায় নয়, বাস্তব পরিস্থিতিতে কীভাবে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, ট্রাফিক সিগন্যালের তাৎপর্য কী, পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী কী নিয়ম মানা জরুরি সেই সব বিষয় সরাসরি দেখানো হয় পড়ুয়াদের। প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ট্রাফিক পয়েন্টে দাঁড়িয়ে নিজেরাই যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতাও অর্জন করে তারা।
পুলিশ আধিকারিকরা জানান, ছোটবেলা থেকেই পথ নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সচেতনতাই এখন ট্রাফিক পুলিশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। প্রদর্শনীতে ট্রাফিক পুলিশের দৈনন্দিন কাজ, আধুনিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সড়ক নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক এবং নাগরিকদের করণীয় বিষয়ও তুলে ধরা হয়।
পথচলতি বহু মানুষ এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের কর্মসূচি শিশু-কিশোরদের মধ্যে দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও পথ নিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলতে উৎসাহিত করবে। সচেতন নাগরিক তৈরির ক্ষেত্রে পুলিশের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় বলেই মত তাঁদের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএসপি (ট্রাফিক) বিক্রম প্রসাদ, ট্রাফিক ওসি সুরেশ দাস-সহ ট্রাফিক পুলিশের অন্যান্য আধিকারিকরা। তাঁদের উপস্থিতিতে পথ নিরাপত্তার বার্তা ছড়িয়ে পড়ল প্রদর্শনীর গণ্ডি ছাড়িয়ে শহরের রাস্তাঘাটেও।





