কলকাতা, ১৩ অক্টোবরঃ রাজধানীর রাজপথ থেকে এ বার কলকাতার রাস্তায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ ছড়াচ্ছে। দিল্লিতে বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার সেই আন্দোলনের রেশ ধরে কলকাতাতেও কেন্দ্রবিরোধী মিছিলের ডাক দিল কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু মঙ্গলবার রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত প্রস্তাবিত সেই মিছিল ঘিরেই তৈরি হল নতুন সংঘাত। পুলিশের দাবি, মিছিলের অনুমতি নেই। তা সত্ত্বেও মিছিল শুরু হওয়ায় কিছু দূর এগোতেই আটকে দেওয়া হয় বিক্ষোভকারীদের।
মঙ্গলবারের কর্মসূচির কথা জানিয়ে প্রচারপত্র প্রকাশ করেছিল কালীঘাট তৃণমূল। এসআইআর-কে কেন্দ্র করে ভোটে কারচুপির অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার প্রতিবাদে পথে নামার ডাক দেওয়া হয়েছিল। দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকানো এবং তরুণ প্রজন্মের উপর অত্যাচারের অভিযোগও প্রচারপত্রে তুলে ধরা হয়। গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
তবে মিছিল শুরু হতেই পুলিশি বাধার মুখে পড়েন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা জানান, মিছিল সম্পর্কে তাঁদের কাছে কোনও তথ্য নেই। সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আইন মেনেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান পুলিশ কমিশনার।
মিছিলের নেতৃত্বে থাকা তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের পাল্টা বক্তব্য, বিপুল সংখ্যায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে তাঁদের আটকে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, বাধা সত্ত্বেও তাঁদের আন্দোলন সফল হয়েছে। দিল্লি ভয় পেয়েছে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
এ দিকে, সোমবার রাতেই পুজোর মরশুমে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর হুঁশিয়ারি, “দুর্গাপুজোয় বিশৃঙ্খলা করতে দেব না। প্রয়োজনে সেন্ট্রাল ফোর্স নামব। এক পা এগোতে দেব না।”
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং রাজ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে এই সংঘাতের আবহে এখন নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপে। জেলায় জেলায় প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাকও দেওয়া হয়েছে বলে খবর। ফলে পুজোর মরশুমে রাজনৈতিক উত্তাপ কতটা বাড়ে, সেটাই দেখার।





