মালদা, ২২ ডিসেম্বরঃ মালদার বৈষ্ণবনগর থানার অন্তর্গত ১৬ মাইল এলাকায় বিজেপির এক জনসভা থেকে দেওয়া বক্তব্য ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়াল। প্রকাশ্য সভামঞ্চ থেকে তৃণমূল কর্মীদের লাঠি ও ঝাঁটা দিয়ে মারার নিদান দেন বিজেপি দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি তারক ঘোষ। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারক ঘোষ বলেন, “প্রত্যেক মা-বোনদের বলছি, হাতে লাঠি ধরবেন, হাতে ঝাঁটা ধরবেন। যেখানেই দেখবেন, সেখানেই পেটাবেন।” তিনি আরও বলেন, “যতক্ষণ না এদের পশ্চিমবঙ্গ থেকে উৎপাত করে ফেলছি, ততক্ষণ সজাগ থাকতে হবে। শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বাংলার পরিবর্তন করব। সোনার বাংলা গড়ব।”
এই ধরনের বক্তব্য কেন দিলেন, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিজেপি নেতা বলেন, রাজ্যে নারী নির্যাতনের ঘটনা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। তাঁর দাবি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা হওয়া সত্ত্বেও মহিলারা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না। কোথাও ধর্ষণ, কোথাও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। সেই কারণেই মহিলাদের আত্মরক্ষার জন্য ঝাঁটা ও লাঠি হাতে নেওয়ার কথা বলেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে বিজেপি নেতার এই মন্তব্যকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এলাকার তৃণমূল বিধায়ক চন্দনা সরকার বলেন, “এটা বিজেপির ভেতরের রাজনীতি। টিকিট পাওয়ার জন্য এই নেতা উল্টো-পাল্টা কথা বলছেন।” তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য বিজেপির আসল চরিত্রকেই সামনে আনছে।”
চন্দনা সরকার পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সামনে নির্বাচন রয়েছে। রাজনীতি হবে মাঠে-ময়দানে, মানুষের উন্নয়নের প্রশ্নে। তৃণমূল কংগ্রেস এই ধরনের হিংসাত্মক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। ভোটের লড়াইয়েই সব জবাব দেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর মালদার রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা স্পষ্ট। প্রকাশ্য সভা থেকে দেওয়া এই ধরনের মন্তব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন দেখার, প্রশাসন এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না এবং আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনীতির পারদ আরও কতটা চড়বে।





