কলকাতা, ১৬ জুনঃ প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ফের তৎপর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তে উঠে আসা আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার বিভিন্ন আর্থিক নথি, লেনদেনের তথ্য এবং সম্পত্তির খতিয়ান তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
সোমবার এই মামলায় প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ইডি আধিকারিকরা। সূত্রের দাবি, নিয়োগ দুর্নীতির অর্থ কোথায় গিয়েছে এবং কার কার অ্যাকাউন্টে সেই অর্থ পৌঁছেছে, তা জানতে একাধিক প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। তবে তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন অভিষেক। যদিও তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তদন্তে তিনি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন।
ভবানীভবন থেকে বেরিয়ে অভিষেক বলেন, “সকাল ১১টার আগে এসেছি। ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ২০২৩ সালেও এই মামলায় ডাকা হয়েছিল। সব মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ বার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজিরা দিয়েছি। আমার সামর্থ অনুযায়ী সবরকম সাহায্য করেছি।”
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে একটি ১৫ মিনিটের অডিও রেকর্ডিং। তদন্তকারীদের দাবি, ২০১৭ সালে ‘কালীঘাটের কাকু’ নামে পরিচিত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের বেহালার বাড়িতে হওয়া এক বৈঠকের কথোপকথন ওই রেকর্ডে ধরা রয়েছে। সেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেন, ভাগ-বাঁটোয়ারা এবং একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
এই মামলায় ইতিমধ্যেই সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র, কুন্তল ঘোষ ও শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। অডিও রেকর্ডিংয়ের সত্যতা এবং সেখানে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি যাচাই করতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেরা করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর। তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নির্ভর করছে সংগৃহীত নথি ও জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য বিশ্লেষণের উপর।





