শিলিগুড়ি, ২৩ ডিসেম্বর: চিকিৎসার অছিলায় এক মহিলার সঙ্গে শারীরিক শ্লীলতাহানির অভিযোগে নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হল এক ব্যক্তি। ধৃতের নাম নজরুল ইসলাম (৬১)। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি চিকিৎসা দেওয়ার নাম করে এক মহিলাকে ধর্ষণ করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিলিগুড়ির প্রধান নগর এলাকার এক মহিলা প্রায় আট মাস আগে শারীরিক সমস্যার কারণে নজরুল ইসলামের কাছে চিকিৎসার জন্য যান। অভিযোগ, সেই সময় চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত ওই মহিলার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও দীর্ঘদিন পরে সাহস সঞ্চয় করে ওই মহিলা আইনি পদক্ষেপ নেন।
ভুক্তভোগী মহিলা মঙ্গলবার সকালে নিউ জলপাইগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি স্পষ্টভাবে ধর্ষণের কথা উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিক মহিলার অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক ছিল এবং চিকিৎসার আড়ালে তিনি এমন কাজ আগেও করেছেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার পরই নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্ত ও অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার বিকালেই অভিযুক্ত নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। জানা গেছে, অভিযুক্তের ভালোবাসা মোড় এলাকায় একটি চেম্বার ছিল, যেখানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা করতেন।
পুলিশ আরও জানায়, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। আজ, মঙ্গলবার অভিযুক্তকে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনার পর চিকিৎসার নামে প্রতারণা ও অপরাধের বিষয়টি নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং এমন কোনও ঘটনার শিকার হলে দ্রুত থানায় অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।





