খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৭ ডিসেম্বর: এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির ঠিক আগের দিনই বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। প্রামাণ্য নথির তালিকায় এবার যুক্ত হলো সিএএ নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে মতুয়া সমাজের মধ্যে স্বস্তির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে এবার সিএএ সার্টিফিকেটকেও বৈধ নথি হিসেবে গ্রাহ্য করা হবে। তবে এর জন্য আবেদনকারীকে নতুন করে ফর্ম–৬ পূরণ করে আবেদন জানাতে হবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে কমিশনের তরফে যে নথির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, সেখানে সিএএ সার্টিফিকেটের কোনও উল্লেখ ছিল না। ফলে নাগরিকত্ব পাওয়ার পরেও ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ধন্দে ছিলেন বহু মানুষ। নতুন সিদ্ধান্তে সেই ধোঁয়াশা অনেকটাই কাটল বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। কমিশনের বক্তব্য, খসড়া ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেও ফর্ম–৬ এর মাধ্যমে আবেদন করা যাবে এবং যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত তালিকায় নাম যুক্ত করা হবে।
নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, নাগরিকত্বের সার্টিফিকেটে আবেদনকারীর সম্পূর্ণ তথ্য উল্লেখ থাকবে। ফলে ম্যাপিং বা যাচাই প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে এই সার্টিফিকেটই একটি গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক হিসেবে কাজ করবে। কমিশনের এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
মতুয়াদের জন্য এই সিদ্ধান্তকে বড় ঘোষণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। তাঁর প্রশ্ন, “যদি সিএএ সার্টিফিকেট গ্রাহ্য হয়, তাহলে আধার কার্ডকে কেন মানা হচ্ছে না?” অন্যদিকে বিজেপির দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ৭০ হাজার মানুষ সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন এবং তাঁদের মধ্যে অনেকের সার্টিফিকেট ইস্যু হয়ে গিয়েছে। বিজেপির মতে, এই সার্টিফিকেট থাকা নাগরিকদের ভোটার তালিকায় নাম থাকাই স্বাভাবিক।
প্রসঙ্গত, এর আগে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, শুধুমাত্র নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করলেই ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। ফলে নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট ভোটার তালিকার ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের নতুন সিদ্ধান্তে সেই জট অনেকটাই কাটল বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে শনিবার থেকে শুরু হতে চলা শুনানি প্রক্রিয়ায় প্রথম দফায় প্রায় ৩২ লক্ষ ‘নো ম্যাপিং’ ভোটারকে ডাকা হবে। রাজ্যজুড়ে মোট ৩,২৩৪টি শুনানি কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় গড়ে ১১টি করে কেন্দ্র থাকবে। সিইও দফতর সূত্রে জানা গেছে, শহরাঞ্চলে সরকারি দফতর ও কলেজ ভবনে এবং জেলাগুলিতে বিডিও অফিস ও ব্লক স্তরের সরকারি দফতরে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।





