খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৫ ডিসেম্বরঃ ওডিশার কন্ধমাল জেলায় মাওবাদী দমনে বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। সাম্প্রতিক এক রোমহর্ষক এনকাউন্টারে সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গণেশ উইকে সহ মোট পাঁচ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে। এই ঘটনাকে ওডিশায় মাওবাদী আন্দোলনের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার মতো ঐতিহাসিক সাফল্য বলেই মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার কন্ধমাল ও কালাহান্ডি জেলার সীমান্তবর্তী তুমুদিবন্ধ ও বেলঘর থানার অন্তর্গত গভীর জঙ্গলে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ এবং ডিস্ট্রিক্ট ভলান্টিয়ার ফোর্স যৌথভাবে এলাকা ঘিরে ফেলে। এরপরই মাওবাদীদের সঙ্গে তীব্র গুলিবিনিময় শুরু হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা সংঘর্ষে পাঁচ জন মাওবাদী নিহত হয়।
এনকাউন্টারের পর ঘটনাস্থল থেকে তিনটি অত্যাধুনিক একে-৪৭ রাইফেল, বিপুল পরিমাণ কার্তুজ, বিস্ফোরক সামগ্রী এবং মাওবাদী সংগঠনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার করেছে বাহিনী। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম গণেশ উইকে। পুলিশ জানিয়েছে, ছত্তিশগড়-ওডিশা সীমান্তে মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনার অন্যতম প্রধান কারিগর ছিল সে। তার মাথার দাম ছিল এক কোটিরও বেশি। বিগত কয়েক দশক ধরে সে সংগঠনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে কাজ করছিল বলে দাবি পুলিশের।
এই অভিযানে সাফল্যকে কেন্দ্রের জিরো টলারেন্স নীতির বড় উদাহরণ বলেই দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই ঘোষণা করেছিলেন, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদী সমস্যা নির্মূল করা হবে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি মালকানগিরিতে ২২ জন মাওবাদীর আত্মসমর্পণ এবং ধারাবাহিক কম্বিং অপারেশনে সংগঠন ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। কন্ধমালের এই এনকাউন্টার স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে উন্নয়ন ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার চাপে ‘লাল সন্ত্রাস’-এর দিন ফুরিয়ে আসছে।





