কাঁথি, ১৯ অক্টোবরঃ রাজনীতির মঞ্চে বিরোধীদের আক্রমণ, আর অষ্টমীর সকালে দেবীর সামনে পুষ্পাঞ্জলি। মহাষ্টমীতে কাঁথিতে নিজের ক্লাবের দুর্গাপুজোয় অংশ নিয়ে ফের রাজনৈতিক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। “আমি কমিউনিস্ট নই, নাস্তিক নই, জামাত নই। হিন্দুবাড়ির ছেলে, সনাতনী” পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার পর এই মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বামেদের নিশানা করে ‘আরশোলা’, ‘ছারপোকা’দের থেকে সাবধান থাকার বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ দিন সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে অষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি ঘিরে ভক্তদের ভিড় ছিল। কাঁথিতে নিজের ক্লাবের পুজোয় হাজির হন শুভেন্দু। দেবী দুর্গার সামনে আরতি করেন, দেন পুষ্পাঞ্জলিও। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে মণ্ডপে নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। তাঁকে দেখতে সেখানে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারাও।
পুজো শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের ধর্মাচরণের প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “আমার বয়স এখন ৫৬ বছর। আমি এটা ৫০ বছর ধরে করছি। এটা সনাতনী হিসেবে আমার কর্তব্য। আমার আস্থার বিষয়। এটা ব্যক্তিগত বিষয়। এর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বা পদের কোনও সম্পর্ক নেই।” অর্থাৎ, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, ব্যক্তিগত বিশ্বাস থেকেই প্রতি বছর পুজোয় অংশ নেন বলে দাবি তাঁর।
এর পরেই বামেদের নিশানা করেন তিনি। শুভেন্দুর কটাক্ষ, “কমিউনিস্টরা এগুলো করে না। পুষ্পাঞ্জলি দেয় না, চরণামৃত খায় না। হাতে ডোর লাগায় না। কপালে টিকা লাগায় না।” পাশাপাশি তাঁদের থেকে সতর্ক থাকার বার্তাও দেন তিনি।
সিজেপি আন্দোলন প্রসঙ্গেও এ দিন বিরোধীদের আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কিছু মানুষ দেশজুড়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। তাঁদের উদ্দেশে ‘আরশোলা’ ও ‘ছারপোকা’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে শুভেন্দু বলেন, “খুব সাবধানে থাকবেন। এদেরকে যে কোনও ভাবে প্রতিহত করতে হবে।”
অন্য দিকে, চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পুজোমণ্ডপগুলির নিরাপত্তার দিকেও নজর রাখা হচ্ছে বলে আশ্বাস দেন তিনি। উৎসবের দিনে ধর্মাচরণ, রাজনৈতিক বাক্যবাণ এবং নিরাপত্তা তিনটি বিষয়ই এ দিন তাঁর বক্তব্যে উঠে এল।





