কলকাতা, ১৯ অক্টোবরঃ উৎসবের আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হয়েছিল মৃত্যুমিছিলে। সপ্তমীর রাতে উত্তর কলকাতার চোরবাগানে পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এল ভয়াবহ তথ্য। অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে মৃতদের অন্তত আট জনের বুকের পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। সেই ভাঙা হাড়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুস। কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরোধে। কারও আবার মাথায় গুরুতর আঘাতের জেরে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। কারও হাত বা পা ভেঙেছে, কারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিডনি। কয়েক জনের ফুসফুসে গুরুতর আঘাতের কথাও উঠে এসেছে প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে। তদন্তকারীদের মতে, ভিড়ের প্রবল চাপ কী ভাবে মানুষের শরীরে প্রাণঘাতী আঘাত তৈরি করতে পারে, এই ঘটনায় তারই মর্মান্তিক ছবি সামনে এসেছে।
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে দমবন্ধ হয়ে। ভিড়ের চাপে বুকের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে ফুসফুস স্বাভাবিক ভাবে প্রসারিত হতে পারে না। ফলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ধরনের পরিস্থিতিকে ‘ট্রমাটিক অ্যাসফিক্সিয়া’ বলা হয়। প্রবল চাপে শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যাহত হওয়া এবং শরীরে রক্তসঞ্চালনের সমস্যা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
মৃতদের তালিকায় রয়েছে সাত বছরের এক শিশুও। তার শরীরেও একাধিক আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শ্বাসরোধের কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। উৎসবের রাতে এমন মর্মান্তিক পরিণতি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে পুজোমণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে।
সূত্রের খবর, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের পুলিশ মর্গে ১৭ জনের দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। শিশুটির ময়নাতদন্ত হয় আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে। বাকি এক জনের দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে। প্রক্রিয়া শেষে দেহগুলি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১৩ জন মহিলা। আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। তাঁদের মধ্যে এক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার তদন্তে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা খতিয়ে দেখছে। কী ভাবে বিপুল ভিড়ের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, নিরাপত্তার ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না এখন সেই প্রশ্নগুলিরই উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।





