মুম্বই, ১৯ অক্টোবরঃ উৎসবের আবহে মায়ানগরীতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায়। ‘বাগি’ অভিনেতাকে খুনের ছক কষেই কি হামলা চালানো হয়েছিল? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্তে নেমে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। রাজস্থানের কোটা রেলস্টেশন থেকে গ্রেফতার করা হল তিন অভিযুক্তকে। তাঁদের সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ। ধৃতদের জেরা করে হামলার নেপথ্যের পরিকল্পনা এবং আরও কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, মুম্বইয়ের জুহু থানা এলাকায় টাইগারের গাড়ি লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল। অভিযোগের তির লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের দিকে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। মুম্বই পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজস্থানের অ্যান্টি-গ্যাংস্টার টাস্ক ফোর্স এবং কোটা সিটি পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। পুনে-জয়পুর এক্সপ্রেসে যাত্রার সময়ই তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়।
ধৃতদের মধ্যে রয়েছে হরিয়ানার সোনিপতের ১৭ বছরের এক নাবালক এবং ১৮ বছরের রেহান। তৃতীয় জন বিহারের বেগুসরাইয়ের ২২ বছরের হৃতিক কুমার ওরফে রোশন। জানা গিয়েছে, রোশন মুম্বইয়ের আন্ধেরি পশ্চিমে র্যাপিডো চালক হিসেবে কাজ করতেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, তাঁদের মধ্যে দু’জন সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। তৃতীয় জন হামলার পর তাঁদের পালাতে সাহায্য করেছিলেন বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীদের অনুমান, আচমকা হামলা নয়, বরং আগে থেকেই পরিকল্পনা করেই টাইগারকে নিশানা করা হয়েছিল। অভিনেতার গতিবিধির উপর নজর রাখা হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, প্রতি রবিবার জুহুর একটি ফুটবল মাঠে যেতেন টাইগার। সেই তথ্য কাজে লাগিয়েই মাঠ থেকে গাড়ি নিয়ে বেরোনোর সময় হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে সন্দেহ।
গুলি চালানোর পর অভিযুক্তরা এসভি রোড ধরে ভিলে পারলে ও আন্ধেরির দিকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। পরে আন্ধেরি পশ্চিম স্টেশনের কাছে মোটরবাইক ফেলে ট্রেনে ওঠেন তাঁরা। পুলিশের নজর এড়াতে মহারাষ্ট্রের সীমানা পেরিয়ে গুজরাতেও ঢুকে পড়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এখন ধৃতদের জেরা করে হামলার উদ্দেশ্য, অস্ত্রের জোগান এবং বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগের সূত্র খুঁজছে পুলিশ। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার নেপথ্যের কারণ নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।





