শ্রীরামপুর, ১৯ অক্টোবরঃ রাজনীতির মঞ্চে কখনও তীব্র আক্রমণ, কখনও বিতর্কিত মন্তব্য। সংসদে তাঁর বক্তব্য ঘিরে কম চর্চা হয়নি। কিন্তু দুর্গাপুজো এলেই যেন অন্য মানুষ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়াল সরিয়ে আবেগে ভেসে যান শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ। এ বারও তার ব্যতিক্রম হল না। সন্ধিপুজো শেষে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়ার সেই মুহূর্তের ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে।
এক সময়ে শ্রীরামপুর স্টেশন সংলগ্ন আরএমএস মাঠে ৫ ও ৬ পল্লি গোষ্ঠী ও ব্যবসায়ী সমিতির দুর্গাপুজোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন কল্যাণ। প্রতি বছরই জাঁকজমক করে পুজোর আয়োজন করা হত সেখানে। অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে সন্ধিপুজোর সময় তাঁর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া যেন পরিচিত দৃশ্য হয়ে উঠেছিল। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এ বার আর সেই পুজোয় দেখা গেল না তাঁকে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণের বদলে যাওয়া ছবিতে আরএমএস মাঠের পুজোর দায়িত্ব এখন বিজেপির হাতে। ফলে এ বার সেই মণ্ডপে কল্যাণের উপস্থিতি দেখা যায়নি। তার বদলে শ্রীরামপুরে তাঁর আবাসন গঙ্গা দর্শনের পুজোয় হাজির হন সাংসদ। সন্ধিপুজো শেষ হতেই ফের আবেগে ভাসতে দেখা যায় তাঁকে।
কল্যাণের পুজোর আবেগ অবশ্য শুধু দুর্গোৎসবেই সীমাবদ্ধ নয়। বাঁকুড়ার দোলতলায় তাঁর আদি বাড়ির কালীপুজোতেও সক্রিয় ভাবে অংশ নেন তিনি। পুজোর সামগ্রী জোগাড় করা থেকে আরতি সবেতেই থাকে তাঁর অংশগ্রহণ। পুজো শেষে কালীপ্রতিমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতেও দেখা যায় তাঁকে। “ভবতারিণী মা, জয় তারা” আবেগমথিত কণ্ঠে ধ্বনি দেওয়ার দৃশ্যও আগেও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েছে।
সংসদে প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়কে নিয়ে মন্তব্য হোক কিংবা যৌথ সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বোতল ছোড়ার বিতর্ক বিভিন্ন ঘটনায় বারবার শিরোনামে এসেছেন কল্যাণ। বিরোধীদের আক্রমণেও পরিচিত তাঁর তীক্ষ্ণ ভঙ্গি। কিন্তু পুজোর সময়ে সেই পরিচিত রাজনৈতিক মেজাজের বাইরে তাঁর আবেগই বারবার সামনে আসে।
এ বারও তাই। আরএমএস মাঠের পুজোয় অনুপস্থিতি, আবাসনের সন্ধিপুজোয় অশ্রুসজল কল্যাণ সব মিলিয়ে দুর্গোৎসবের আবহে নতুন করে আলোচনায় শ্রীরামপুরের সাংসদ। রাজনীতির হিসাব-নিকাশের বাইরে পুজোর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত আবেগের টান কতটা গভীর, তা নিয়েই এখন চর্চা।





