খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৯ ডিসেম্বরঃ গত কয়েক দিন ধরেই বাংলাদেশজুড়ে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছিল। দিল্লি বারবার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছিল, যার জেরে ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনার ভারতীয় ভিসাকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়। সেই উত্তেজনার মধ্যেই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ রূপ নেয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়, যার মূল লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে প্রগতিশীল সংবাদমাধ্যম, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং ভারতীয় কূটনৈতিক স্থাপনা।
বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার কারওয়ান বাজারে ‘প্রথম আলো’ ও ‘দ্য ডেলি স্টার’-এর দপ্তরে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভিতরে আটকে পড়া সাংবাদিকদের উদ্ধার করে। সাংবাদিকদের একাংশের অভিযোগ, পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকায় হামলাকারীরা নির্বিঘ্নে তাণ্ডব চালায়। পরিস্থিতির জেরে শুক্রবার দুই সংবাদপত্রের মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়নি, ডিজিটাল সংস্করণও কার্যত স্তব্ধ।
ঢাকার বাইরে সহিংসতা আরও ভয়াবহ আকার নেয়। খুলনায় এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে উত্তেজিত জনতার বিরুদ্ধে। ময়মনসিংহে এক যুবককে পিটিয়ে খুন করার খবর মিলেছে। চট্টগ্রামে ভারতীয় উপদূতাবাস লক্ষ্য করে ঢিল-পাটকেল ছোড়া হয় এবং রাতভর অবস্থান বিক্ষোভ চলে।
ঢাকায় শাহবাগে ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়াতেই জমায়েত হয় বহু মানুষ। অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কিছু নেতা সেখানে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন, যার পর দেশজুড়ে হিংসার আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং ধর্মনিরপেক্ষ সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ছায়ানটে’ হামলার ঘটনাও সামনে আসে।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করে বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর দেশকে অস্থিতিশীল করতে দুস্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। তাঁর মতে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্রের মৃত্যু সেই অপতৎপরতারই অংশ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে নতুন করে মেরুকরণ তৈরির চেষ্টা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, প্রতিবাদী কণ্ঠের আড়ালে ছড়িয়ে পড়া ভারত বিদ্বেষ কি কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাতের ফল, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে বিদেশি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই বা চিনের মতো শক্তির পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র? পরিস্থিতির দ্রুত অবসান ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিই এখন সবচেয়ে জোরালো।





