বারুইপুর, ২ জানুয়ারিঃ বিধানসভা নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই রাজনৈতিক তরজা তীব্র হচ্ছে রাজ্যে। নতুন বছরের দ্বিতীয় দিন থেকেই কার্যত ভোট প্রচারে নেমে পড়লেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থেকে ‘রণসংকল্প সভা’র সূচনা করেন তিনি। সভার মঞ্চ থেকে বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বকে একের পর এক কটাক্ষ করেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে এসআইআর ইস্যু এবং বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের বিতর্কিত মন্তব্য।
অভিষেক বলেন, “বিজেপির সাংসদই আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশি, পাকিস্তানি বলছে।” তিনি বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, বিজেপির এমপি ও এমএলএরা যাঁকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছেন, তাঁরাই আজ দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অভিষেকের এই মন্তব্যে সভায় উপস্থিত তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে কোচবিহারের দিনহাটার সিতাই ব্লকের আদাবাড়ি ঘাটে এক কর্মসূচিতে অনন্ত মহারাজ দাবি করেন, এসআইআর তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে সংশ্লিষ্টদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে। এই বক্তব্যের সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম জড়ান। সেখানেই অনন্ত মহারাজ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই বাংলাদেশি। প্রমাণ কে করবে?” এই মন্তব্য ঘিরেই দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়।
বারুইপুরের সভায় সেই প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, “বিজেপির ভিতরেই আজ বিভ্রান্তি। একদিকে হিন্দুত্বের বড় বড় কথা, অন্যদিকে নিজেদের সাংসদই প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশি বলছে।”
এদিন আরও এক ধাপ এগিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করতে একটি অডিও ক্লিপ শোনান অভিষেক। ওই অডিওতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কণ্ঠে বাংলাদেশে ইউনুস সরকারের প্রশংসা শোনা যায় বলে দাবি করা হয় (যদিও অডিওর সত্যতা যাচাই করা হয়নি)। অভিষেক বলেন, “যে সরকারের আমলে বাংলাদেশে হিন্দু যুবক দীপু দাস খুন হয়েছে, সেই সরকারকে সার্টিফিকেট দিচ্ছে বিজেপি। এটাই ওদের তথাকথিত হিন্দুত্ব।”
সব মিলিয়ে, বারুইপুরের সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও ধারালো করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, যা আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।





