কলকাতা, ২ সেপ্টেম্বরঃ পুরভোটের ঢাকে কাঠি পড়তেই কলকাতায় ময়দানে নামার প্রস্তুতি শুরু বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূলের। ডিলিমিটেশনের পর কলকাতা পুরসভার ২০৯টি ওয়ার্ডেই বিজেপির বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ভোটের কৌশল, সম্ভাব্য প্রার্থী এবং সংগঠনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে সপ্তাহের শেষে বসছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
বিধানসভায় মঙ্গলবার এক প্রশ্নের উত্তরে ঋতব্রত জানান, নতুন বিন্যাসে তৈরি হওয়া প্রতিটি ওয়ার্ডেই তাঁদের প্রার্থীরা লড়বেন। শুধু কলকাতা নয়, হাওড়া-সহ অন্যান্য পুরসভাতেও নাগরিক স্বার্থকে সামনে রেখে নির্বাচনে যাওয়ার দাবি করেছে তাঁর শিবির। পুরভোটের দায়িত্বে থাকা নেতাদের সঙ্গে ‘সম্মিলিত সিদ্ধান্ত’-এর ভিত্তিতেই চূড়ান্ত রণকৌশল তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
৫ সেপ্টেম্বর থেকে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে গণশুনানি শুরু হচ্ছে। সেখানে দলীয় প্রতিনিধিদের তথ্য, নথি এবং প্রয়োজনীয় মানচিত্র-সহ উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে নেতৃত্ব। কারণ, ওয়ার্ডের সীমানা বদল সরাসরি ভোটের অঙ্ক, জনসংখ্যার ভারসাম্য এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। পুরসভা ওয়ার্ড ডিলিমিটেশনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও নির্বাচনী বিধি মেনে আপত্তি ও মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলে। সেই সুযোগেই নিজেদের আপত্তি নথিভুক্ত করতে চাইছে ‘আসল’ তৃণমূল। সর্বদলীয় বৈঠকেও দলের তরফে ডিলিমিটেশন নিয়ে আপত্তির কথা জানানো হয়েছে।
এসআইআর-সংক্রান্ত কারণে যাঁদের আবেদন এখনও ট্রাইবুনালে আটকে রয়েছে, তাঁদের নাম দ্রুত ভোটার তালিকায় তোলার দাবি করছে ঋতব্রত শিবির। পুজোর আগেই বিষয়টির নিষ্পত্তি চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতিও চলছে। ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা জেলা নেতৃত্বকে। অন্য দিকে বিজেপিও নির্বাচনী কমিটি গড়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে।
ফলে ডিলিমিটেশন থেকে ভোটার তালিকা পুরভোটের আগে প্রশাসনিক প্রক্রিয়াই এখন হয়ে উঠছে রাজনৈতিক লড়াইয়ের নতুন ক্ষেত্র। প্রতীক ও দলের তহবিল সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তও ভোটের অঙ্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। শেষ পর্যন্ত ২০৯ ওয়ার্ডের লড়াই শুধু পুরসভা দখলের নয়, ‘আসল’ তৃণমূলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব প্রমাণের পরীক্ষাও এমনটাই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।





