জলপাইগুড়ি, ২১ সেপ্টেম্বরঃ তিস্তার স্রোত তখন বেশ চড়া। নদীর জলে ভেসে যাচ্ছে ছোট্ট একটি হস্তিশাবক। দূর থেকে সেই দৃশ্য চোখে পড়তেই আর এক মুহূর্ত দেরি করেননি স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা নিয়ে নদীতে ছুটে যান তাঁরা। প্রবল স্রোতের মধ্যে পৌঁছে যান শাবকটির কাছে। শেষ পর্যন্ত সেটিকে নৌকায় তুলে নিরাপদে নদীর পাড়ে নিয়ে আসেন মৎস্যজীবীরা।
ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিস্তার জলে হস্তিশাবকটিকে ভেসে যেতে দেখেন কয়েক জন মৎস্যজীবী। পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত নদীতে নেমে পড়েন তাঁরা। স্রোতের টান সামলে শাবকটিকে উদ্ধার করে নদীর চরে নিয়ে আসা হয়।
তবে উদ্ধার করার পরও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শাবকটি দীর্ঘক্ষণ তিস্তার চরে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। ছোট্ট হাতিটিকে ঘিরে স্থানীয়দের ভিড়ও জমে যায়। কেউ দূর থেকে তাকিয়ে দেখছিলেন, কেউ আবার বন দফতরকে খবর দেওয়ার চেষ্টা করেন।
এরই মধ্যে যেন অপেক্ষার অবসান। আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে করতে শাবকটির কাছে এসে পৌঁছয় মা হাতি। মায়ের উপস্থিতি টের পেয়ে শাবকটিও তার দিকে এগিয়ে যায়। মা ও শাবকের ফের মিলন দেখেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন স্থানীয়রা।
এই ঘটনায় এলাকায় যেমন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, তেমনই মৎস্যজীবীদের তৎপরতার প্রশংসাও করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দ্রুত উদ্যোগেই বিপদের মুখ থেকে শাবকটি উদ্ধার হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
খবর পেয়ে হস্তিশাবক ও মা হাতির গতিবিধির উপর নজরদারি শুরু করেছে কাঠামবাড়ি রেঞ্জের বনকর্মীরা। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত দু’টির গতিবিধি নজরে রাখা হচ্ছে। শাবকটি যাতে ফের কোনও বিপদে না পড়ে এবং হাতির দল যাতে নিরাপদে নিজেদের পথে ফিরতে পারে, সে দিকেও নজর রয়েছে বনকর্মীদের।
তিস্তার স্রোতে ভেসে যাওয়া ছোট্ট প্রাণের জন্য কয়েক মিনিটের সেই উদ্ধার অভিযান শেষ পর্যন্ত বদলে দিল দৃশ্যপট। নদীর বুক থেকে নিরাপদ মাটি, আর সেখান থেকে ফের মায়ের কাছে এক হস্তিশাবকের ফিরে পাওয়ার গল্পে আপাতত স্বস্তি তিস্তার পাড়ে।





