খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১১ মেঃ পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের অর্থনীতিতেও। এই পরিস্থিতিতে রবিবার দেশবাসীর উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি একদিকে যেমন জ্বালানির ব্যবহার কমানোর আবেদন জানিয়েছেন, তেমনই আগামী এক বছর সোনা না কেনার অনুরোধও করেছেন সাধারণ মানুষের কাছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রবিবার তেলেঙ্গানার এক জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গোটা বিশ্বে পেট্রল-ডিজেলের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছে। পেট্রল-ডিজেল সংরক্ষণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানো আমাদের সকলের দায়িত্ব।” পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “আমি জনগণের কাছে আবেদন করব, আগামী এক বছর বিয়ের জন্য সোনা কিনবেন না।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গিয়েছে। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ৭০ ডলার থেকে বেড়ে ১২৬ ডলারে পৌঁছেছে বলে অর্থনৈতিক মহলের দাবি। ফলে ভারতের আমদানি ব্যয়ও অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।
ভারত মূলত আমদানিনির্ভর দেশ। দেশের মোট অশোধিত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। একইভাবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণ আমদানিকারক দেশও ভারত। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সোনার আমদানিও বৈদেশিক মুদ্রার উপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মানুষ যত বেশি সোনা কিনবেন, তত বেশি আমদানি করতে হবে। এর ফলে অতিরিক্ত ডলার খরচ হবে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার দুর্বল হবে। একইসঙ্গে ডলারের তুলনায় টাকার দাম আরও কমতে পারে। তার সরাসরি প্রভাব পড়বে আমদানি ব্যয়, মূল্যবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনীতির উপর।
বিশেষ করে ভারতের মতো দেশে, যেখানে সোনা শুধু অলঙ্কার নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর এই আবেদন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহল। বিয়ে, উৎসব বা সঞ্চয়ের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে সোনা কেনার দীর্ঘদিনের অভ্যাসে সাময়িক সংযম আনার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে চাপের মুখ থেকে কিছুটা রক্ষা করতেই এই বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বলে মনে করা হচ্ছে।





