কলকাতা, ৯ মেঃ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যে নতুন সমীকরণ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। নতুন সরকারের শপথগ্রহণের আবহে প্রশাসনিক স্তরেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সেই প্রেক্ষিতেই কলকাতা পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়া পদক্ষেপ ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
সম্প্রতি কলকাতা পুলিশের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেখা গেছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আনফলো করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পিএমও ইন্ডিয়া, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং হোম মিনিস্ট্রি ইন্ডিয়ার অফিসিয়াল পেজ ফলো করতে শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। এই পরিবর্তন নজরে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন শাসকদলের প্রভাবেই কাজ করে। ‘মমতার পুলিশ’ এই শব্দবন্ধও বারবার উঠে এসেছে রাজনৈতিক চর্চায়। তবে সরকার পরিবর্তনের পর এই আনফলো পদক্ষেপকে কেউ দেখছেন প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার ইঙ্গিত হিসেবে, আবার কেউ মনে করছেন এটি রাজনৈতিক বার্তারই বহিঃপ্রকাশ।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অফিসিয়াল হ্যান্ডেলে কোনও পরিবর্তন দেখা যায়নি। তারা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফলো করে রেখেছে। ফলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্থার মধ্যে এই ভিন্ন অবস্থানও প্রশ্ন তুলছে।
এদিকে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের উপস্থিতিতে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হতে চলেছে নতুন মন্ত্রিসভা, যাদের হাতেই থাকবে রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপকে অনেকেই নতুন ক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
সব মিলিয়ে, ক্ষমতা বদলের পর শুধু রাজনৈতিক মঞ্চেই নয়, প্রশাসনিক আচরণেও পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট হচ্ছে। আগামী দিনে এই পরিবর্তন কতটা গভীরে পৌঁছায়, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যের মানুষের।





