কলকাতা, ৯ মেঃ রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে নতুন সরকারের তরফে। ঘোষণা করা হয়েছে, ভবিষ্যতে রাজ্য সচিবালয়ের কাজ চলবে ঐতিহাসিক মহাকরণ ভবন থেকে। তবে সেই প্রস্তুতি সম্পূর্ণ না হওয়ায় আপাতত প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হতে চলেছে নবান্ন-তেই। শুক্রবার নবান্নের কনফারেন্স রুমে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
শনিবার ব্রিগেডে শপথগ্রহণের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় গিয়ে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের দিনক্ষণ ও স্থান চূড়ান্ত হয়। একইসঙ্গে প্রশাসনিক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্রের খবর, বৈঠকে শুভেন্দু স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, চলমান সরকারি প্রকল্পগুলিতে কোনওভাবেই যাতে ব্যাঘাত না ঘটে। সাধারণ মানুষের পরিষেবা যাতে নির্বিঘ্নে চালু থাকে, সে বিষয়েও কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলেও পরিষেবা ব্যবস্থায় হঠাৎ পরিবর্তনে যাতে জনজীবনে সমস্যা না হয়, সেটাই মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে মহাকরণে সচিবালয় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তের পরই সেখানে সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন পর প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে এই ভবনকে পুনরুজ্জীবিত করতে সময় লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই কারণে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বিধানসভার একটি অংশকে অস্থায়ীভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের জন্য নতুন পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে এবং তাঁর নামফলকও বসানো হয়েছে।
আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণের কর্মসূচি নির্ধারিত হয়েছে বিধানসভায়। তার পরদিন, অর্থাৎ শুক্রবার, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে নবান্নে। এছাড়াও জানা গিয়েছে, সোমবার পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
সব মিলিয়ে, একদিকে ঐতিহ্যবাহী প্রশাসনিক ভবনে ফেরার প্রস্তুতি, অন্যদিকে বর্তমান ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এই দুইয়ের সমন্বয় করেই এগোতে চাইছে নতুন সরকার।





