কলকাতা, ৮ মেঃ নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে কলকাতায় পৌঁছলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ দমদম বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে যান শাহ। দলের ঐতিহাসিক জয়ের পর সেখানে বিশেষ পুজোও দেন তিনি।
দক্ষিণেশ্বর থেকে নিউটাউনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। বিকেলে সেখানে বিজেপির জয়ী বিধায়কদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন তিনি। সেই বৈঠকেই পরিষদীয় নেতা নির্বাচন ও মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত হতে পারে বলে সূত্রের খবর। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, শেষ মুহূর্তে কোনও পরিবর্তন না হলে মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
অন্যদিকে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। সেই তালিকায় উঠে আসছে আগ্নিমিত্রা পাল, মালতী রাভা রায় এবং দীপক বর্মনের নাম। বিজেপি সূত্রে খবর, নতুন মন্ত্রিসভায় ডেপুটি, পূর্ণমন্ত্রী ও রাষ্ট্রমন্ত্রী মিলিয়ে মোট ৩৬ থেকে ৪০ জন থাকতে পারেন। তবে ব্রিগেডের মূল শপথমঞ্চে কারা জায়গা পাবেন, তা নিয়ে এখনও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন বহু জয়ী বিধায়ক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি বিধায়ক জানান, এখনও পর্যন্ত দল বা লোকভবন থেকে কোনও ফোন পাননি তিনি।
শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে হতে চলেছে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র। এছাড়াও বিজেপি শাসিত ২১টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বাংলার বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন শপথ অনুষ্ঠান হওয়ায় আয়োজনেও থাকছে বিশেষ বাঙালিয়ানা। সভাস্থলে বাজবে রবীন্দ্রসঙ্গীত। আলাদা সাংস্কৃতিক মঞ্চ তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। মূল মঞ্চে থাকবেন ভিভিআইপি অতিথিরা। মাঠের একাংশে বিশিষ্ট অতিথিদের জন্য সোফা বসানোর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
বিজেপির তরফে অন্তত ১ লক্ষ মানুষের সমাগমের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক নবনির্বাচিত বিধায়ককে কমপক্ষে এক হাজার সমর্থক নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্রিগেড ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন থাকবেন প্রায় ৪ হাজার পুলিশকর্মী।





