শিলিগুড়ি, ৩ মেঃ জন্মদিন মানেই কেক, পার্টি আর আড়ম্বর—এই চেনা ছবিটাকেই ভেঙে এক অন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন উত্তরবঙ্গের পরিচিত সাংবাদিক সৌরভ রায়। ২ মে, নিজের ৩২তম জন্মদিনে কোনও ব্যক্তিগত উদযাপন না করে তিনি দিনটি উৎসর্গ করলেন সমাজের প্রান্তিক শিশুদের জন্য।
শনিবার সকালেই তিনি পৌঁছে যান ফাঁসিদেওয়া ব্লকের প্রত্যন্ত তরাই অঞ্চলের একাধিক চা বাগানে। ভোজনারায়ণ, গয়াগঙ্গা, কমলা, মতিধর এবং খাড়োভাঙা—এই পাঁচটি বাগানের দুঃস্থ অথচ মেধাবী পড়ুয়াদের হাতে তিনি তুলে দেন প্রায় ২৫টি অক্সফোর্ড ডিকশনারি।
সৌরভ রায়ের কথায়, ডিজিটাল যুগে অনলাইনই এখন ভরসা হলেও চা বাগান এলাকায় নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা বড় সমস্যা। সেখানে একটি ডিকশনারি শুধুমাত্র বই নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ—যা একজন পড়ুয়ার পাশাপাশি তার পরিবারের অন্য সদস্যদেরও কাজে লাগতে পারে।
এই উদ্যোগে সামিল হয়েছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। বিভিন্ন চা বাগানে উপস্থিত থেকে তাঁরা এই কাজের প্রশংসা করেন এবং বলেন, সমাজের প্রতি এই ধরনের দায়বদ্ধতা অন্যদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।
দিনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় ভোজনারায়ণ চা বাগানে, যখন বাবা-হারা দুই ভাইয়ের হাতে ডিকশনারি তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের পরিবারের চোখে জল আর ছোটদের হাসিই হয়ে ওঠে সৌরভের জন্মদিনের আসল প্রাপ্তি। প্রতি বছর এমনভাবেই নিজের বিশেষ দিন উদযাপনের অঙ্গীকার করেছেন তিনি—যা নিঃসন্দেহে সমাজে এক ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।





