দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ২৯ এপ্রিলঃ দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় কেন্দ্র বুধবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইএসএফ প্রার্থী তথা বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী-কে বুথ পরিদর্শনে বাধা দেওয়া এবং তাঁকে ঘিরে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এলাকায় রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সকালেই ভাঙড়ের একাধিক স্পর্শকাতর বুথ ঘুরে দেখার জন্য বেরিয়েছিলেন নওশাদ সিদ্দিকী। অভিযোগ, একটি বুথে পৌঁছনোর পরই সেখানে আগে থেকে জমায়েত থাকা তৃণমূল কর্মীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন তাঁকে শারীরিকভাবে বুথে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়।
নওশাদের নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও মুহূর্তের মধ্যেই তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আইএসএফ ও তৃণমূল দু’পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় ধস্তাধস্তি, হাতাহাতি এবং ইটবৃষ্টি। সংঘর্ষের জেরে বুথের সামনে রীতিমতো অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ ভোটাররা। প্রাণভয়ে অনেকেই বুথ ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে কয়েক দফায় লাঠিচার্জ করতে হয়। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ওই বুথে ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর নওশাদ সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, “একজন প্রার্থী হিসেবে বুথ পরিদর্শন করা আমার অধিকার। তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে আমায় আটকানোর চেষ্টা করছে এবং ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে।”
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাঁদের দাবি, নওশাদ সিদ্দিকী বহিরাগতদের নিয়ে এলাকায় ঢুকে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছিলেন। তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের অনুগামীরা বলেন, “এলাকায় বহিরাগতদের দাপট আমরা মেনে নেব না।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের তরফে ভাঙড়ে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা রুট মার্চ করছেন।
সবমিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার ভোটে ভাঙড়ের এই ঘটনা রাজ্যের নির্বাচনী পরিবেশে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।





