কলকাতা, ২৯ এপ্রিলঃ বুধবার দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী। ভোটদান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন তিনি।
ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ভোটারদের হুমকি ও ভয় দেখিয়ে ভোট করানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, “নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু তাঁরা সেই সীমা ছাড়িয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সিআরপিসি বা নতুন ফৌজদারি বিধি কোথাওই এই ধরনের ক্ষমতা পর্যবেক্ষকদের দেওয়া হয়নি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, পর্যবেক্ষকদের কাজ হল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে রিপোর্ট দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে তাঁরা তৃণমূল কর্মীদের ধমকানো-চমকানোর কাজ করছেন। “যাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই, তাঁদেরও ভয় দেখানো হচ্ছে। এসব করে কোনও লাভ হবে না,” বলেন তিনি।
ভোট দিয়ে বেরিয়ে তৃণমূল নেতা রাজনৈতিক আক্রমণও শানান বিজেপির বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, “দ্বিতীয় দফাতেই বিজেপির দফারফা হয়ে যাবে।” একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন নিয়েও কটাক্ষ করে বলেন, “ভারতীয় সেনার রাফাল বা যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা শুধু বাকি আছে, সেটাও করে দিন!”
এদিন সামাজিক মাধ্যমেও ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দেন অভিষেক। তিনি লেখেন, “এই ভোট বাংলার মানুষের ভবিষ্যতের জন্য। সবাই সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে ভোট দিন।” দীর্ঘ লাইনে দাঁড় করিয়ে ভোটারদের হেনস্থা করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যেন ভোটের মাধ্যমে তার জবাব দেন।
পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে আরও সরব হয়ে অভিষেক বলেন, “উত্তরপ্রদেশ থেকে অফিসার এনে ফুটেজ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এসব কৌশল কাজ করবে না।” তাঁর দৃঢ় দাবি, ব্যালট খোলার পরই ফল স্পষ্ট হয়ে যাবে এবং তৃণমূল কংগ্রেস আগের চেয়েও বেশি আসন ও ভোট নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে।
সবমিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার ভোটের দিনেই কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র আক্রমণে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।





