দমদম, ১৭ এপ্রিলঃ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দমদম থেকে কেন্দ্রীয় সরকার ও তদন্তকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে রাসবিহারীর তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর দফতরের হানাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা, নির্বাচনী পরিবেশ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে সরব হন তৃণমূল নেত্রী।
এদিন দমদম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কাল যখন ক্ষমতায় থাকবে না, এই হানাগুলো যখন তোমাদের বাড়িতে হবে, তখন সামলে নিও।” তাঁর অভিযোগ, ভোটের মুখে বিরোধী প্রার্থীদের চাপে রাখতে পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রার্থীর বাড়িতে আয়কর হানা দেওয়া হচ্ছে। প্রার্থী প্রচার করবেন কখন? এভাবে আটকে রেখে তাঁর একটা গোটা দিন নষ্ট করা হচ্ছে।”
দেবাশিস কুমারের পরিবারের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, তাঁর মেয়ের সঙ্গে মহানায়ক উত্তম কুমারের নাতির বিয়ে রয়েছে, সেই সময়েও তাঁদের বাড়ি ও অফিসে হানা দেওয়া হয়েছে। “ব্যক্তিগত কিছু থাকলে ভোটের পরে তদন্ত করা যেত। কিন্তু ভোটের সময় এই ধরনের পদক্ষেপ প্রার্থীর সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করছে,” এমনই অভিযোগ তোলেন তিনি।
এদিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকাতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সিআইএসএফ, বিএসএফ এই বাহিনীগুলিকে আগে শ্রদ্ধা করতাম। এখন মনে হচ্ছে সবাইকে বলা হয়েছে বিজেপির হয়ে কাজ করতে।” রাস্তায় মহিলাদের ব্যাগ তল্লাশি নিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “মহিলারা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে, আর তাঁদের ব্যাগ খুলে দেখা হচ্ছে। কী খোঁজা হচ্ছে? কোনওদিন উল্টে কিছু ঢুকিয়ে দিয়ে ধরেও নিয়ে যেতে পারে। মহিলাদের সতর্ক থাকতে হবে।”
বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘গণতন্ত্রের উৎসব’ নয়, বরং ‘অত্যাচারের উৎসব’ বলে কটাক্ষ করেন মমতা। তাঁর মতে, নির্বাচনের নামে সাধারণ মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং প্রশাসনিক কাঠামোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কেন্দ্রকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। “আগে বাইরে থেকে কেউ এলে রাজ্যকে জানানো হত। এখন সেটাও করা হয় না,” অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির সমালোচনা করে খাদ্যাভ্যাস প্রসঙ্গে বলেন, “আমি ছাতু খাই, লিট্টি খাই, ধোকলা, ধোসাও খাই। আমার তো জাত যায় না। জাতের নামে বজ্জাতি চলছে।”
নারীশক্তি বন্দন বিল নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করে মমতা জানান, এর আড়ালে অন্য কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকলে তৃণমূল তা রুখে দেবে।
ভাষণের শেষে ‘খেলা হবে’ স্লোগান তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা শান্তিপ্রিয়, কিন্তু অত্যাচার হলে দুরন্ত খেলা খেলতে জানি। বাংলা জয় করে দিল্লি জয় করব।” একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “একতরফা ভাবে কোনও দলের হয়ে কাজ করবেন না। দেশের জন্য কাজ করুন।”
সব মিলিয়ে, দমদমের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক ভাষণ নির্বাচনী আবহে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





