মনিরুল হক, কোচবিহারঃ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কোচবিহারের রাসমেলার মাঠে জনসভা করে বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে সরব হলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে ‘মাতৃশক্তি কার্ড’ নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের আগে ভুয়ো প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সভামঞ্চ থেকে মমতা বলেন, “ফর্ম ফিলআপের নাম করে বাইরের সংস্থাকে ভাড়া করেছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলছে টাকা পাবেন, আর সেই অজুহাতে নাম, পরিবারের তথ্য, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর নিচ্ছে। ওদের কথায় বিশ্বাস করবেন না।” তাঁর অভিযোগ, এই তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার চেষ্টা চলছে।
এদিন তিনি মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। মমতার কথায়, “মতুয়াদেরও এইভাবে সর্বনাশ করা হয়েছিল। একটা ফর্ম লিখিয়ে নাগরিকত্বের নামে ভাঁওতা দেওয়া হয়েছিল। ভোটাধিকার আর নাগরিকত্বকে এক করে দেখানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।” তাঁর মতে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়েও মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করা হয়েছে।
শুধু ‘মাতৃশক্তি কার্ড’ নয়, আসন পুনর্বিন্যাস ও মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “এই বিল পাশ করাতে গেলে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে। অথচ পুনর্বিন্যাসের নামে নতুন খেলা শুরু হয়েছে। দেশের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০-র কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা চলছে। এর ফলে দেশের কাঠামোই বদলে যেতে পারে।”
মমতার আশঙ্কা, এই ধরনের পুনর্বিন্যাসের ফলে ছোট রাজ্য ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলির গুরুত্ব কমে যেতে পারে। তিনি বলেন, “দেখবেন একদিন কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং, শিলিগুড়ির মতো জায়গাগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব হারিয়ে যাবে। দেশটাকে টুকরো টুকরো করার চেষ্টা চলছে।”
তৃণমূল নেত্রীর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় নীতিগুলিকে সামনে এনে বিজেপির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে চাইছে তৃণমূল। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তিনি বোঝাতে চান, ভোটের আগে নানা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পা না দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে এই ধরনের ইস্যু তুলে ধরে তৃণমূল তাদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে। বিশেষ করে মতুয়া ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের ভোটব্যাঙ্ককে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, কোচবিহারের এই জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণাত্মক ভঙ্গি নির্বাচনী লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে। এখন দেখার, এই ইস্যুগুলি কতটা প্রভাব ফেলে ভোটারদের মনে এবং নির্বাচনের ফলাফলে তার প্রতিফলন ঘটে কি না।





