মনিরুল হক, ১৭ এপ্রিলঃ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে বাংলায়। সেই আবহেই কোচবিহারের রাসমেলার ময়দান থেকে জনসভা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে মোদীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে আক্রমণ শানান তিনি।
সভামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কিছুদিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখানে এসে বললেন, উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে কিছু হয়নি। আমি বলি, আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। সেই চেয়ারে বসে আছেন। হয়তো বেশিদিন থাকবেন না, কিন্তু যতদিন আছেন দয়া করে মিথ্যা কথা কম বলুন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন প্রসঙ্গে নিজের সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি দাবি করেন, “আমরা উত্তরবঙ্গের জন্য ১ লক্ষ ৭২ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছি। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর ছোট একটি দপ্তর হলেও সামগ্রিক উন্নয়ন বহু ক্ষেত্রেই হয়েছে। রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য, শিক্ষা সব ক্ষেত্রেই উন্নয়ন হয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যের উন্নয়নকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছে।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “একটা কথা বলার আগে বারবার করে ক্রসচেক করবেন। পার্টি যা শিখিয়ে দিচ্ছে, ইলেকশনের স্বার্থে সেটাই বলে দিচ্ছেন! এত মিথ্যের ফুলঝুরি মানুষ আর সহ্য করবে না।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, নির্বাচনের আগে বিজেপির প্রচার কৌশলকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি।
শুধু উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রতিশ্রুতির বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “বছরে দুই কোটি চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কোথায় সেই চাকরি? বলেছিলেন প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। কোথায় গেল সেই টাকা? কালো টাকা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার কী হল?” এইসব প্রশ্ন তুলে বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোচবিহারের এই সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত উত্তরবঙ্গের ভোটারদের বার্তা দিতে চেয়েছেন যে রাজ্য সরকার উন্নয়নে পিছিয়ে নেই। পাশাপাশি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি ভোটের আগে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছেন।
উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গের একাধিক আসন প্রথম দফার ভোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে। তাই এই অঞ্চলে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার তুঙ্গে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সভা সেই প্রচারযুদ্ধেরই অংশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
সব মিলিয়ে, কোচবিহারের সভা থেকে তৃণমূল নেত্রীর আক্রমণ যে নির্বাচনী লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলল, তা বলাই যায়। এখন দেখার, এই বক্তব্যের পালটা কীভাবে দেয় বিজেপি এবং তার প্রভাব পড়ে কি না ভোটের ফলাফলে।





