মনিরুল হক, কোচবিহারঃ কোচবিহারের দিনহাটায় দিনের তৃতীয় জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী আবহে এদিনের সভা কার্যত রাজনৈতিক তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। সরাসরি বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “বিজেপি সরকারকে ভাঙুন, বিজেপির দুরাচারকে ভাঙুন।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, দিনহাটায় হাজার হাজার ভোটারের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, “৩০-৩২ হাজার নাম কেটে দিয়েছে। ওরা ভীরু, কাপুরুষের দল। মেঘের আড়াল থেকে লড়াই করে, সামনে এসে লড়তে পারে না।” বিজেপির বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “আমার মুখোমুখি দাঁড়াবার ক্ষমতা নেই। সাহস থাকলে সামনে আসুন।”
এদিনের সভায় তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে ব্যঙ্গাত্মক সুরও। তিনি বলেন, “যত পারো দিল্লি কা লাড্ডু খেয়ে যাও, ৪ তারিখের পর নারকেলের নাড়ু, তিলের নাড়ু দেব।” এই মন্তব্যকে ঘিরে সভামঞ্চে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটের আগে কার্ড বিলি ও তথ্য সংগ্রহ নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “ভোটের সময় ‘মডেল কোড অব কনডাক্ট’ ভেঙে যা খুশি করছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম ফিলআপ করছে, মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য নিচ্ছে। এটা চিচিং ফাঁক।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই তথ্য পরে কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে অপব্যবহার করা হতে পারে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে নিশানা করে মমতা বলেন, “যাঁদের নাম থাকবে না, তাঁদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তুমি তাড়াবার কে?” একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অসম থেকে এনআরসি-র নোটিশ পাঠানো হচ্ছে এবং বহিরাগতদের এনে ভোটে প্রভাব ফেলার চেষ্টা চলছে।
শীতলকুচির ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “ওই ঘটনা মানুষ ভুলবে না।” পাশাপাশি কোচবিহারের উন্নয়নে রাজ্য সরকারের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ডিলিমিটেশন বিল নিয়েও কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “মহিলা বিলের সঙ্গে ডিলিমিটেশন জুড়ে বাংলাকে ভাগ করার চেষ্টা হচ্ছে। আমরা থাকতে এটা হতে দেব না।”
সভা শেষে আত্মবিশ্বাসী সুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস এবার আরও বেশি আসনে জয়লাভ করবে এবং কোচবিহার থেকেই সেই জয়ের সূচনা হবে।





