কলকাতা, ১৪ এপ্রিলঃ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠল নতুন বিতর্কে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি তল্লাশির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে এমনই দাবি করেছে শাসক দল।
তৃণমূলের বক্তব্য, এই নির্দেশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভোটের আগে বিরোধীদের চাপে রাখতে পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে। দলের দাবি, “পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই বিজেপি প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করেছে।” যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি নির্বাচন কমিশন।
প্রকাশ্যে আসা ওই হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে দাবি করা হয়েছে, স্বাস্থ্য শিবিরের নামে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের ভিত্তিতে এই তল্লাশির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, তৃণমূলের শীর্ষ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে বাদ দিয়ে দলের অন্যান্য নেতা ও মন্ত্রীদের গাড়িতে নজরদারি চালাতে হবে। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রীর নাম আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও দাবি তৃণমূলের।
মেসেজে আরও বলা হয়েছে, যেন কোনওভাবেই এই দুই ব্যক্তির গাড়ি তল্লাশি এড়িয়ে না যায়। এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতার পথ থেকে সরে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের চাপে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে রদবদল করা হয়েছে, যা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তারই মধ্যে এই নতুন অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ রাজ্যের নির্বাচনী পরিবেশকে আরও তপ্ত করে তুলছে। যদিও বিরোধী শিবির এখনও এই অভিযোগ নিয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে ঘটনাটি যে আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।
এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে কী অবস্থান নেয় এবং তৃণমূলের অভিযোগের জবাবে কী পদক্ষেপ করে। ভোটের আগে এই বিতর্কের প্রভাব নির্বাচনী ফলাফলেও পড়তে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





