কোচবিহার, ১৪ মার্চ : যুদ্ধ হচ্ছে কয়েক হাজার কিমি দূরে ইরানে। সেই যুদ্ধের আঁচ লেগেছে এদেশের বাসিন্দাদের হেঁসেলে। যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুদ্ধ গ্রাহকদের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কেন্দ্রীয় সরকার কী করছে? কোচবিহার জেলাজুড়ে গ্যাসের সমস্যার জেরে নাজেহাল গ্রাহকেরা।গ্যাস পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে বৃদ্ধা মহিলা থেকে প্রবীর নাগরিকদের। টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে থেকে যারা ব্যাপক ক্ষোভের কথাও বলছেন।
এক গ্রাহক জানালেন, যুদ্ধ হচ্ছে ইরানে। আমাদের কোচবিহারের রান্নাঘরে কেন তার প্রভাব পড়বে? কেন্দ্র সরকার কী করছে? শহরের বিভিন্ন নামী রেস্তোরাঁ ও হোটেলেও রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। হঠাৎ করেই গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা।গ্যাসের অভাবে অনেক রেস্তোরাঁতেই তন্দুরি আইটেমসহ একাধিক জনপ্রিয় খাবার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে খাবার খেতে এসে অনেক গ্রাহককেই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
হোটেল মালিকদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে গ্যাস সরবরাহে অনিয়ম দেখা দিয়েছে।অনেক রেস্তোরাঁয় যে পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় দৈনন্দিন ব্যবসা চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। কিছু রেস্তোরাঁয় অল্প পরিমাণ গ্যাস মজুত থাকলেও তা আর কতদিন চলবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
হোটেল ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, বিশেষ করে তন্দুরি ও ওভেনে তৈরি খাবারের জন্য বেশি পরিমাণ গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু গ্যাসের অভাবে এসব আইটেম আপাতত বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এর ফলে শুধু ব্যবসায় ক্ষতিই নয়, গ্রাহকদের অসন্তোষও বাড়ছে।এদিকে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে হোটেল ব্যবসায় বড়সড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
হোটেল কর্তৃপক্ষের মতে, সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। সাধারণ বাসিন্দারা অনেকেই জানাচ্ছেন, বাড়িতে রান্না হবে কী করে সেটাই ভাবাচ্ছে। নোট বন্দিতে লাইনে দাড়ালাম, এখন আবার গ্যাসের জন্য লাইন দিতে হচ্ছে। কেন্দ্র সরকার আমজনতার কথা আর কবে ভাববে!





