বীরভূম, ১৮ ফেব্রুয়ারিঃ পড়াশোনা শেষ না করেই একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন করেছিল পরিবার। কিন্তু নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন সেই নাবালিকা সাহসিকতার সঙ্গে বিয়েতে ‘না’ বলে দেয়। বুদ্ধি ও দৃঢ়তার জোরে সে নিজেই বন্ধ করে দেয় বাল্যবিবাহ। এই ঘটনায় তাকে কুর্নিশ জানিয়েছে প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই।
জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রীর নাম সমাপ্তি মণ্ডল। বীরভূম জেলার বৈদ্যনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সে। মুক্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী সমাপ্তি পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়। কিন্তু সম্প্রতি পরিবারের সদস্যরা তার অমতে বিয়ের ব্যবস্থা করেন। পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও সমাপ্তি হার মানেনি। উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে প্রথমে রাজনগর উন্নয়ন ব্লকের বিডিও-র কাছে বিষয়টি জানায় সে। যদিও তার বাড়ি দুবরাজপুর উন্নয়ন ব্লকের অন্তর্গত। পরে দ্রুত বিষয়টি দুবরাজপুরের বিডিও-র কাছে পৌঁছয় এবং সিডিপিও-কে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিয়ের দিনই আইসিডিএস সুপারভাইজার ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। প্রশাসনের তৎপরতায় বন্ধ হয়ে যায় বিয়ে। নাবালিকার এই সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সকলে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের মতে, সমাপ্তির পদক্ষেপ অন্য কিশোরীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।
ঘটনায় অভিভূত হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। তাঁর উদ্যোগে সমাপ্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি কম্পিউটার। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, তার লেখাপড়ার সমস্ত খরচ প্রশাসনের তরফে বহন করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই সহায়তায় খুশি সমাপ্তি ও তার পরিবার।
সমাপ্তির সাহসী পদক্ষেপ আবারও মনে করিয়ে দিল, সচেতনতা ও প্রশাসনিক সহযোগিতা থাকলে বাল্যবিবাহ রোখা সম্ভব। পড়াশোনার অধিকার রক্ষায় এক কিশোরীর লড়াই আজ অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার গল্প।





