খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১০ ফেব্রুয়ারিঃ বাংলার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে বিরোধীদের, বিশেষ করে বিজেপির কটাক্ষ নতুন নয়। কখনও এই প্রকল্পকে ‘ভিক্ষার দান’, কখনও আবার নির্বাচনী ঘুষ বলে আক্রমণ করেছে গেরুয়া শিবির। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলার এই জনপ্রিয় ও সফল মডেলকেই হাতিয়ার করে ভিন রাজ্যে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করেছে বিজেপি। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে এবার বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে খোদ দেশের রাজধানী দিল্লিতে।
২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টিকে হারিয়ে দিল্লিতে সরকার গঠন করে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হন দলের নেত্রী রেখা গুপ্তা। ক্ষমতায় এসেই তিনি ঘোষণা করেন, বাংলার অনুকরণে চালু হবে ‘মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা’। যদিও এই প্রকল্প সর্বজনীন নয়। শর্ত দেওয়া হয়, ২১ থেকে ৬৫ বছর বয়সি মহিলাদের মধ্যে যাঁদের পারিবারিক আয় বছরে আড়াই লক্ষ টাকার কম, তাঁরাই মাসে ২,৫০০ টাকা পাবেন। ঘোষণা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক নারী দিবস অর্থাৎ ৮ মার্চ থেকেই প্রকল্প চালু হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। ঘোষণার পর প্রায় এক বছর ঘুরতে চললেও দিল্লির কোনও মহিলার অ্যাকাউন্টে এখনও পর্যন্ত একটি টাকাও পৌঁছয়নি। ফলে বিজেপির সদিচ্ছা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের কটাক্ষ, প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা ভঙ্গ করাই বিজেপির ‘জুমলাবাজি’র পরিচয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু দিল্লি নয়, মধ্যপ্রদেশের মতো বিজেপিশাসিত রাজ্যেও মহিলাদের আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভোট মিটতেই সেই ঘোষণাগুলি কার্যত ঝুলে রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলার ছবি একেবারেই আলাদা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যা ঘোষণা করে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করে তার প্রমাণ মিলেছে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারির অন্তর্বর্তী বাজেটে। সেখানে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর অর্থ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয় এবং মুখ্যমন্ত্রীর কথামতো ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই বর্ধিত হারে টাকা পেতে শুরু করেছেন বাংলার মহিলারা। কথা আর কাজের এই তফাতই এখন বাংলার মডেলকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে, এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের।





