খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৩ ফেব্রুয়ারি: প্রযুক্তি কিংবা ব্যবসায়িক কৌশলের অজুহাতে কোনওভাবেই নাগরিকের গোপনীয়তার অধিকার খর্ব করা যাবে না এই স্পষ্ট ও কড়া বার্তাই দিল দেশের শীর্ষ আদালত। মঙ্গলবার হোয়াটসঅ্যাপ ও তার মূল সংস্থা মেটাকে কার্যত ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, ডেটা শেয়ারিংয়ের নামে ব্যক্তিগত তথ্যের উপর হস্তক্ষেপ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, শুনানির সময় বিচারপতিরা স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেন, “ডেটা শেয়ারিংয়ের নামে এই দেশের নাগরিকদের গোপনীয়তার অধিকার নিয়ে খেলতে পারেন না।” আদালত মেটার সেই যুক্তিও খতিয়ে দেখে, যেখানে ব্যবহারকারীর সম্মতি ও ‘অপ্ট-আউট’ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। তবে বেঞ্চের কড়া পর্যবেক্ষণ, ‘অপ্ট-আউট’-এর যুক্তি আসলে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের একটি ‘ভদ্র’ পদ্ধতি মাত্র, যা গোপনীয়তা লঙ্ঘনেরই নামান্তর।
এই প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বার্তা, ভারতীয় নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে না পারলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার এদেশে ব্যবসা করার অধিকার নেই। এমনকি প্রয়োজনে ভারত ছেড়ে যাওয়ার কথাও বলে দেয় আদালত। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রককেও এই মামলার পক্ষভুক্ত করেছে। আদালত জানিয়েছে, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি হতে পারে।
এই মামলার সূত্রপাত মূলত হোয়াটসঅ্যাপ ও মেটার দায়ের করা আবেদনের শুনানি থেকে। ওই আবেদনে প্রতিযোগিতা কমিশন অব ইন্ডিয়ার জরিমানার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। কমিশনের অভিযোগ, হোয়াটসঅ্যাপের ‘নিতে হবে, নইলে ছাড়ুন’ ধরনের গোপনীয়তা নীতির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কোনও বিকল্প না দিয়েই শর্ত মানতে বাধ্য করা হয়েছিল।
শুনানির সময় আদালত আরও জানায়, বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির গোপনীয়তা নীতি এমন জটিল ভাষায় তৈরি করা হয়, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা প্রায় অসম্ভব। ফলে ব্যবহারকারীর সম্মতি আদৌ কতটা অর্থবহ, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এদিকে, ভারতে আইনি চাপের পাশাপাশি আমেরিকাতেও নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে মেটা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের হওয়া এক মামলায় অভিযোগ, হোয়াটসঅ্যাপ গোপনীয়তা ও ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ নিয়ে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করেছে। যদিও মেটা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। সব মিলিয়ে, ডিজিটাল যুগে নাগরিকের গোপনীয়তা রক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থান ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।





