খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৮ জানুয়ারি: এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন)শুনানিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ক্রমশ আরও তীব্র হচ্ছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এবার একের পর এক বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ ও খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বদের নাম জড়িয়ে পড়ছে এই প্রক্রিয়ায়। সাম্প্রতিক ঘটনায় জাতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলার রহিম নবিকে এসআইআর শুনানিতে তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শনিবার তাঁর হাতে নোটিস পৌঁছেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, একই দিনে শুনানিতে হাজিরা দেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ও বর্তমান বাংলা দলের হেড কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল।
এর আগেও জাতীয় দলের ক্রিকেটার মহম্মদ শামি, প্রাক্তন ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্ল, ফুটবলার মেহতাব হোসেন, কম্পটন দত্ত, অলোক মুখোপাধ্যায়ের মতো দেশের প্রতিনিধিত্ব করা একাধিক ক্রীড়াবিদের কাছে এসআইআর শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। দেশের হয়ে খেলা ক্রীড়াবিদদেরও নিজেদের বৈধ ভোটার পরিচয় প্রমাণ করতে হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে ক্রীড়াজগতের অন্দরমহলে। অভিযোগ উঠছে, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের নামে ক্রীড়াবিদদের অযথা হেনস্তা করা হচ্ছে।
এই প্রতিবাদেরই অংশ হিসেবে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে কলকাতার ভবানীপুর ক্লাবের সামনে প্রায় ১৫০ জন ক্রীড়াবিদ রাস্তায় নামেন। তাঁদের দাবি, কোনও বৈধ ভোটার যেন বাদ না পড়েন, তবে খেলোয়াড়দের বারবার শুনানিতে ডেকে অসম্মান করা অনুচিত। সেই প্রতিবাদের মধ্যেও রহিম নবির কাছে নোটিস পৌঁছনোয় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। পাশাপাশি মোহনবাগান ক্লাবের সচিব সৃঞ্জয় বসু ও প্রাক্তন সভাপতি টুটু বসুকেও এসআইআর শুনানিতে তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, এই তালিকায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামী এবং অভিনেতা-সাংসদ দেবের নাম উঠে আসায় বিষয়টি আরও রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়াকে অমানবিক ও ত্রুটিপূর্ণ বলে উল্লেখ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, শুনানিতে হাজির হয়ে লক্ষ্মীরতন শুক্ল বলেন, তিনি সিস্টেমের উপর আস্থা রাখেন, তবে কোনও বৈধ নাগরিক বা ক্রীড়াবিদের যেন ক্ষতি না হয়, সেটাই তাঁর কাম্য। তবুও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে এসআইআর কি শুধুই যাচাই প্রক্রিয়া, নাকি ধীরে ধীরে তা হেনস্তার হাতিয়ার হয়ে উঠছে?





