মুর্শিদাবাদ, ১৭ জানুয়ারি: সকাল হতেই ফের অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। বড়ুয়া মোড়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর রাস্তা অবরোধ শুরু করেন এলাকাবাসী। অবরোধের জেরে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডবে একাধিক দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে চরম উত্তেজনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলডাঙার মকদমপুর এলাকার বাসিন্দা আনিসুর রহমান চারদিন আগে বিহারে ফেরিওয়ালার কাজ করতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, বাংলাদেশি সন্দেহে সেখানকার কিছু মানুষ তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। শুক্রবার রাতে কোনওরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে বাড়ি ফেরেন আনিসুর। শনিবার সকালে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার খবর ছড়াতেই নতুন করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। আনিসুরের দাবি, তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর সঙ্গীরাও আক্রান্ত হন, তবে তাঁর আঘাত সবচেয়ে গুরুতর।
এর আগেই ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার উত্তাল হয়েছিল বেলডাঙা। মৃতদেহ গ্রামে ফিরতেই সুজাপুর–কুমারপুর এলাকায় জাতীয় সড়ক অবরোধ ও রেল রোকো কর্মসূচি শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
মৃত শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখ ওই এলাকারই বাসিন্দা। ফেরিওয়ালার কাজের সূত্রে তিনি ঝাড়খণ্ডে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁর ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় বলে পরিবারকে জানানো হয়। এই ঘটনার খবর এলাকায় পৌঁছতেই ক্ষোভ চরমে ওঠে। শুক্রবার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন এক সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকও।
পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে একের পর এক ভিনরাজ্যে শ্রমিক নিগ্রহ ও মৃত্যুর অভিযোগে বেলডাঙায় চাপা উত্তেজনা এখনও কাটেনি।





