কলকাতা, ৫ জানুয়ারিঃ রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ)সংক্রান্ত মামলার রায় এখনও সুপ্রিম কোর্টে রিজার্ভ রয়েছে। ২০২৬ সাল এসে গেলেও ডিএ বৃদ্ধি বা সপ্তম পে কমিশন নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে কোনও স্পষ্ট ঘোষণা না হওয়ায় উদ্বেগ ও জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে সরকারি কর্মীদের মধ্যে। তার উপর চলতি বছরই বিধানসভা নির্বাচন এই পরিস্থিতিতে ভোটের আগে রাজ্য সরকার কি কর্মীদের কথা ভেবে কোনও বড় সিদ্ধান্ত নেবে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চর্চা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। শুধু তাই নয়, লোকসভা ভোটের আগে পরপর দু’বার মহার্ঘ ভাতা বাড়ানো হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবারও ভোটের আগে অনুরূপ কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও ইঙ্গিত না পাওয়ায় সংশয় কাটছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কর্মচারীরা রাজ্যের একটি বড় ভোটব্যাঙ্ক। শুধু তাই নয়, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ভোটের মুখে তাদের অসন্তুষ্ট রেখে ঝুঁকি নিতে চাইবে না শাসকদল এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
এই আবহেই সম্প্রতি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভূঁইয়া। তৃণমূল কংগ্রেস প্রভাবিত একটি সরকারি কর্মচারী সংগঠনের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, সরকার খুব ভালোভাবেই জানে যে সরকারি কর্মীরা রাজ্যের উন্নয়ন ও জনসেবায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ছাড়া সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনো সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
এছাড়াও মানস ভূঁইয়া বলেন, সরকার চোখ বন্ধ করে নেই। কর্মীদের চিকিৎসা ভাতা, ভ্রমণ ভাতা এবং ডিএ সংক্রান্ত দাবির বিষয়েও সরকার সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি ও সুযোগ-সুবিধার কথা মাথায় রেখেই স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন এমন আশ্বাস দেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্য নিছক বক্তব্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের ইঙ্গিতও হতে পারে।
অন্যদিকে, ডিএ মামলার রায় নিয়ে ফের নজর সুপ্রিম কোর্টের দিকে। সোমবার শীর্ষ আদালত খুললে এই মামলার রায় ঘোষণা হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সরকারি কর্মীরা। একাধিক মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই ডিএ মামলার চূড়ান্ত রায় হতে পারে। সত্যিই কি সেই রায় আসবে এবং তার প্রভাব কী হবে সেটাই এখন দেখার।





