নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: চার বছরের শিশুকন্যাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল শিলিগুড়ি সংলগ্ন নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) থানা এলাকায়। নিজের শিশুকন্যার উপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তার মা। অভিযোগের ভিত্তিতে যোগেশ রায় নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়।
অভিযোগকারিণীর দাবি, গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে শিশুটি পেট ও তলপেটে ব্যথার কথা জানাচ্ছিল। মাঝেমধ্যেই কান্নাকাটিও করছিল সে। মায়ের বারবার জিজ্ঞাসার মুখে শিশুটি ‘মেসো’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির কথা বলে। ওই ব্যক্তিই তাকে কষ্ট দিয়েছে বলে জানায় শিশুটি। চার বছরের মেয়ের মুখে এমন কথা শুনে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন মা।
অভিযোগে আরও জানানো হয়েছে, গত ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা প্রায় সাতটা নাগাদ মেয়েকে নিয়ে স্থানীয় মোর বাজারে যাওয়ার সময় অভিযুক্তকে দেখতে পায় শিশুটি। তাঁকে দেখেই ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করে এবং মাকে জড়িয়ে ধরে। শিশুটির এমন আচরণে সন্দেহ আরও দৃঢ় হয় মায়ের।
এর পরদিন রাত প্রায় ৯টা নাগাদ সূর্যসেন কলোনির বাল্মীকি মাঠের কাছে যোগেশ রায়ের মুখোমুখি হন তিনি। মেয়ের শারীরিক সমস্যা এবং তার মুখে উঠে আসা অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করতেই অভিযুক্ত চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন বলে দাবি। সেই সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ‘কোডু’ ডাকনামের আরও এক ব্যক্তি অভিযোগকারিণী ও তাঁর শিশুকন্যাকে ধাক্কা দেন বলেও অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অভিযুক্তকে মারধর করেন বলে অভিযোগ।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এনজেপি থানার পুলিশ। সেখান থেকেই যোগেশ রায়কে আটক করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে থানায় যান বিজেপির ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি ৩ নম্বর মণ্ডল যুব মোর্চার সভাপতি শ্যামল বিশ্বশর্মা। তিনি বলেন, ‘‘অত্যন্ত ঘৃণ্য একটি ঘটনা। পুলিশের উপর আমাদের আস্থা রয়েছে। বাকি বিষয়টি তদন্তের উপর নির্ভর করছে।’’
অন্যদিকে, শিশুটির মায়ের দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা এবং তার সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।





