কলকাতা, ৫ নভেম্বরঃ সরকারি অফিসে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবি থাকবে। কিন্তু যে কোনও ছবি নয়। এ বার থেকে সরকারি দফতর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নেতাজির একটি নির্দিষ্ট ছবিই টাঙাতে হবে। সেই ছবি বেছে দিয়েছে নেতাজির পরিবার। পরিবারের পছন্দ করা ছবিটিই যথাযথ মর্যাদায় প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। বুধবার এমনটাই জানালেন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন।
মঙ্গলবার স্কুলশিক্ষা দফতরের অধীন সমস্ত সরকারি অফিসে এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অফিসের বিশিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নেতাজির নির্দিষ্ট ছবিটি প্রদর্শন করতে হবে। অর্থাৎ, এত দিন বিভিন্ন সরকারি দফতরে নেতাজির যে নানা ধরনের ছবি দেখা যেত, এ বার থেকে তার বদলে পরিবারের বেছে দেওয়া ছবিটিই স্থান পাবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে নির্দেশিকায় ‘অনুমোদিত ছবি’ শব্দের ব্যবহার ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শিক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবি টাঙানোর ক্ষেত্রে আবার অনুমোদনের প্রয়োজন কেন? কোন ছবিকে অনুমোদিত বলা হচ্ছে, তারও স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল এই প্রশ্ন তুলেছেন।
অন্য দিকে, নির্দেশিকাকে স্বাগত জানিয়েছে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারীর বক্তব্য, শুধু নেতাজির ছবি টাঙালেই হবে না, সরকারি দফতরে তাঁর আদর্শও অনুসরণ করতে হবে। তাঁর কথায়, সরকারি অফিসে স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাই নেতাজির প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
নেতাজিকে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে এই নির্দেশিকার তাৎপর্য নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি নেতাজি সম্পর্কে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। তাঁর কাছ থেকে বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহার এবং এফআইআর দায়েরের ঘটনাও ঘটে।
সেই আবহে সরকারি দফতরে নেতাজির নির্দিষ্ট ছবি প্রদর্শনের নির্দেশ ঘিরে রাজনৈতিক বার্তার প্রশ্নও উঠছে। তবে সরকারের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, নেতাজির পরিবারের পছন্দ করা ছবিটিকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়াই এই নির্দেশিকার উদ্দেশ্য।





