কলকাতা, ৪ অক্টোবরঃ বিদেশে থাকলেও আপাতত পুরোপুরি আইনি রক্ষাকবচের বাইরে নন বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল। তবে সেই সুরক্ষা পেতে হলে ফিরতে হবে কলকাতায়। আগামী ১৭ নভেম্বরের মধ্যে তাঁকে কলকাতায় ফেরার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক স্বস্তিও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। আদালতের নির্দেশ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কলকাতায় ফিরলে আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। ফলে টুলুর মামলায় আপাতত কিছুটা স্বস্তি এলেও তাঁর ফেরার সময়সীমা বেঁধে দিল শীর্ষ আদালত।
বুধবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগুর ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। টুলুর আইনজীবী মঙ্গলবারই সুপ্রিম কোর্টে সুরক্ষাকবচের আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, টুলু দেশের বাইরে দুবাইয়ে রয়েছেন। দেশে ফিরলে তদন্তকারী সংস্থার নির্দেশ অনুযায়ী হাজিরা দিতে প্রস্তুত তিনি। এমনকি আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, টুলু দেশের সবচেয়ে বড় অপরাধী নন। তাই অন্তত দু’সপ্তাহের জন্য তাঁকে রক্ষাকবচ দেওয়া হোক।
সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই বুধবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয় আদালত। বিচারপতিদের নির্দেশ, ১৭ নভেম্বরের মধ্যে কলকাতায় ফিরতে হবে টুলুকে। তিনি কলকাতায় পৌঁছনোর পর থেকেই তিন সপ্তাহের জন্য সাময়িক রক্ষাকবচ কার্যকর হবে। সেই সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত।
তবে এই নির্দেশ নিঃশর্ত নয়। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টুলু কলকাতায় না ফিরলে এই রক্ষাকবচের সুবিধা তিনি পাবেন না। সে ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের পথ খোলা থাকবে। অর্থাৎ বিদেশে বসে আপাতত সুরক্ষার সুবিধা নেওয়ার সুযোগ নেই।
বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলকে ঘিরে আইনি জটিলতার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এক দিকে দেশে ফেরার জন্য সময়সীমা, অন্য দিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শাস্তিমূলক পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষা দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখেছে শীর্ষ আদালত। এখন নজর, ১৭ নভেম্বরের মধ্যে কলকাতায় ফেরেন কি না টুলু।





