ইসলামপুর, ৩১ অক্টোবরঃ বাবার মৃত্যুর বিচার পেতে অপেক্ষা আর নয়। খুনের মামলায় প্রায় ৪৫ দিন ধরে পলাতক মূল অভিযুক্তকে শেষ পর্যন্ত নিজেই ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন নিহতের মেয়ে। শুক্রবার রাতে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর বাস টার্মিনাস এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযুক্তকে পাকড়াও করতে গিয়ে ধস্তাধস্তিতেও জড়িয়ে পড়েন সঙ্গীতা মণ্ডল। তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন তুতো বোন সুতপা ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ইসলামপুর থানার নন্দঝাড় এলাকার অলিপুরে মারধরের ঘটনায় গুরুতর জখম হন সঙ্গীতার বাবা রঞ্জিত মণ্ডল। অভিযোগ, তাঁর দাদা রবীন্দ্রনাথ মণ্ডলকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হন রঞ্জিত। তাঁকে উদ্ধার করে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর। পরের দিন, ১৬ সেপ্টেম্বর, পরিবারের তরফে ইসলামপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর অভিযুক্ত নাবালকের বাবা-সহ কয়েক জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্ত ওই নাবালক-সহ আরও কয়েক জনের খোঁজ মিলছিল না। সেই থেকে পলাতক ছিল সে।
শুক্রবার রাতে ইসলামপুর বাস টার্মিনাস এলাকায় আচমকাই ওই নাবালককে দেখতে পান সঙ্গীতা। প্রথমে তার গতিবিধির উপর নজর রাখেন তিনি। পরে তুতো বোন সুতপাকে ডেকে আনেন। দু’জনে মিলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে ধরার চেষ্টা করেন। পালানোর চেষ্টা করলে তাকে জাপটে ধরে আটকে রাখেন তাঁরা। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় ইসলামপুর থানার পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
থানার কাছাকাছি এলাকায় খুনের মামলার মূল অভিযুক্ত কী ভাবে এত দিন পুলিশের নাগালের বাইরে ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ। অন্যদিকে, বাবার মৃত্যুর বিচার চেয়ে সঙ্গীতা ও সুতপার এই উদ্যোগের প্রশংসা করছেন বাসিন্দারা। এখন মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে নিহতের পরিবার।




