কলকাতা, ২৮ অক্টোবরঃ একদিকে ভিড়ের চাপ, অন্যদিকে নজরদারির ফাঁক। চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোয়েন্দা পুলিশের দাবি, মণ্ডপে বসানো ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে ১৭টিই কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। শুধু তা-ই নয়, মণ্ডপের বেরোনোর গেটের কাছে থাকা তিনটি ক্যামেরার মধ্যে দু’টিও বন্ধ ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। বিপর্যয়ের মুহূর্তে নজরদারির এই ঘাটতি কেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার বন্দোবস্তে পুজো কমিটির ভূমিকা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের জেরায় ধৃত পুজো কমিটির সম্পাদক রাজকুমার সেওদা ওরফে রাজা শর্মা ওরফে মোটা রাজা জানিয়েছেন, পুজোর আয়োজন থেকে ভিড় সামলানো কোনও ক্ষেত্রেই কমিটির সদস্যদের বিশেষ অভিজ্ঞতা ছিল না। তা সত্ত্বেও তাঁরা আয়োজনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তৃতীয়া থেকেই মণ্ডপে ভিড় বাড়তে শুরু করলেও পরিস্থিতি সামলাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। অবশ্য তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দায় নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।
সিসিটিভির ফুটেজ উদ্ধার এখন তদন্তকারীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। দু’টি ডিভিআর বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। একটি ডিভিআরে ১৪টি এবং অন্যটিতে ১৬টি ক্যামেরার ফুটেজ থাকার কথা। কিন্তু একটি ডিভিআর থেকে এখনও পর্যন্ত ১৩টি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করা গিয়েছে বলে খবর। বিভিন্ন কোণ থেকে পাওয়া পাঁচটি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বিপর্যয়ের মুহূর্তগুলির ধারাবাহিক ছবি তৈরির চেষ্টা চলছে। একটি ফুটেজে মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতির সবচেয়ে ভয়াবহ অবনতি হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের পর্যবেক্ষণ।
এদিকে, মণ্ডপের নকশা ও নির্মাণ নিয়ে তথ্য পেতে শিল্পী সুশান্তশিবানী পালকে লালবাজারে ডেকে জেরা করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। প্রবেশ ও প্রস্থান পথের পরিকল্পনা, নকশা মেনে কাজ হয়েছিল কি না এবং ভিড়ের চাপে কীভাবে বিপর্যয় ঘটল এসব বিষয়েই তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, মেদিনীপুর, নদিয়ার চাকদহ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তদন্তের জন্য পুলিশের দল পাঠানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী, মৃতদের পরিজন ও আহতদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ছবি তৈরির চেষ্টা চলছে। বুধবার ধৃতদের পুলিশ হেফাজত শেষে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করার কথা।
সিসিটিভির ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং মণ্ডপের কাঠামোগত তথ্য সব মিলিয়ে ঘটনার পুনর্গঠন করতে চাইছে পুলিশ। এখন তদন্তের কেন্দ্রে একটাই প্রশ্ন: এত বড় আয়োজনের নিরাপত্তায় ঘাটতি থাকল কোথায়, আর সেই গাফিলতি কি এড়াতে পারত ১৯টি প্রাণহানি?





